গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা করিম বিএনপিতে

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল করিম বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন  তিনি।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হাসান উদ্দিন সরকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী ছায়েদুল ইসলাম বাবুল ছিলেন না। গাজীপুর কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন ভুঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় নেতা সিরাজুল হক মোল্লা ও মাহবুব আলম।

আবদুল করিমের বিএনপিতে যোগদানের কড়া সমালোচনা করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর জেলা বিএনপির একাধিক নেতা। তারা বলছেন, হাসান উদ্দিন সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে করিমকে বিএনপিতে যোগদান করানো হয়েছে। তিনি একসময় হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গেই জাতীয় পার্টি করতেন। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির কমিশনার প্রার্থী হান্নান মিয়াকে পিটিয়ে আহত করেছিলেন এই আবদুল করিম। তবে তার বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব বলেছেন, আবদুল করিমের যোগদানের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা বিএনপি শক্তিশালী হবে।

গাজীপুর জেলা বিএনপির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, সর্বশেষ গাজীপুরে যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছিল সে নির্বাচনে করিম ২৬ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের হয়ে কমিশনার পদে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতা হান্নান মিয়ার কাছে হেরে যান। নির্বাচনের আগে করিম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে হান্নান মিয়াকে পিটিয়েছিলেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন হওয়ার আগে পৌরসভা ছিল। সে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন আবদুল করিম।

যোগদান অনুষ্ঠানে আব্দুল করিম বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে যে আন্দোলন বিএনপি করছে তা সফল করতে তিনি কাজ করবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের আধিপত্য একচ্ছত্র করে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার পরিকল্পনা করেছে। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করে তুলেছে, বিরাজনীতিকরণ করছে। যেন রাজনীতি করতে না পারে বাংলাদেশের মানুষ। এ সময় তিনি বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নকুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিও জানান।

গাজীপুরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংগঠনের বিকল্প কিছু নেই। সংগঠন থাকলেই আপনি আন্দোলনে সফল হতে পারবেন, সংগঠন থাকলে আপনি নির্বাচনে সফল হতে পারবেন। এই বিষয়টা সব সময় মনে রাখতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উনি মুক্ত না হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা যাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে এক দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না। আগে বাকশাল করেছিল, এখন তারা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে চায়। দেশের কোথাও ভালো অবস্থা নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, কোথাও সুশাসন নেই, আছে দুঃশাসন। অর্থনীতিকে শেষ করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো পুরোপুরিভাবে দেউলিয়া করে ফেলা হচ্ছে।

 কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সৃষ্ট সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ তাদের কারণেই, তাদের সমস্ত দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের কারণেই সিন্ডিকেট তৈরি করে চামড়া শিল্প ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের চামড়া শিল্প ওপরের দিকে উঠছিল, এখন চামড়া শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।

অগ্নিকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি : যোগদান অনুষ্ঠানের পর মির্জা ফখরুল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুরের চলন্তিকা বস্তি পরিদর্শন করেন। এ সময় এ অগ্নিকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। বলেন, বছরের শুরু  থেকেই একের পর এক অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে রাজধানীতে। কেন এমন হচ্ছে তা তদন্ত করতে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বিশেষের দ্বারা হলে তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল মিন্টুসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।