চলতি বছর এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাবি উপকূলের কাছে পাওয়া যায় ডুগং বা সমুদ্র গাভীর বাচ্চাটিকে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিটির ওই এতিম মেয়ে শিশুটিকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় সমুদ্র বিজ্ঞানীরা তার নাম মারিয়াম। মাত্র অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মারিয়াম পরিচিতি পেয়ে যায় সারা বিশ্বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেট জগতে রীতিমতো তারকা বনে যায় সে। এর কিছুদিন পরেই আরও একটি সমুদ্র গাভীর ছেলে বাচ্চার সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। দেশটির রাজকন্যা উবনরাত শ্রীভাদানা বারনাভাদি ছেলে শিশুটির নাম রাখেন জামিল। তাদের দুজনের একই সঙ্গে থাকারও ব্যবস্থা হয়। তখন এই শিশু সমুদ্র গাভী দুটি ইন্টারনেট জগতে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু মারিয়ামের ভাগ্যে সে জনপ্রিয়তা সইল না। গত শনিবার মারা গেছে সে। পেটের মধ্যে প্লাস্টিক নিয়ে না খেয়ে মরে গেছে সমুদ্রের তৃণভোজী প্রজাতির এই শিশুটি।
গত সপ্তাহেই থাই মেরিন অ্যান্ড কোস্টাল রিসোর্স বিভাগ (ডিএমসিআর) গত সপ্তাহেই ফেইসবুক পোস্টে জানায়, মারিয়াম অসুস্থ এবং কোনো খাবার খাচ্ছে না। আর গতকাল শনিবার আরেক ফেইসবুক পোস্টে মারিয়ামের মৃত্যুর খবর জানায় ডিএমসিআর। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মারিয়াম মারা যাওয়ার পরে তার শরীরের ময়নাতদন্ত করা হয়। তখন দেখা গেছে, তার পাকস্থলী ও অন্ত্রে রয়েছে প্লাস্টিক। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পেট ভর্তি প্লাস্টিক থাকার কারণে গ্যাস জমে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পরে।
মালয় ভাষায় ডুগং-এর অর্থ হলো সমুদ্রের ভদ্রমহিলা বা সমুদ্রের গাভী। ভারত মহাসাগর অঞ্চল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশ পর্যন্ত অঞ্চলে এদের বসবাস। এদের প্রধান খাবার সমুদ্রের ঘাস। স্ত্রী ডুগং গড়ে সাত বছর পর পর বাচ্চা দেয়। গর্ভকাল হলো ১২-১৪ মাস। বাচ্চা ডুগং প্রায় এক বছর ধরে মায়ের দুধ খায়। বাঁচে প্রায় ৭০ বছর।
বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এদের সংখ্যা কমেছে। ভারত মহাসাগর, আন্দামান ও নিকোবর, শ্রীলঙ্কার উপকূল ইত্যাদি অঞ্চলে অত্যধিক মাছ ধরাও এদের পক্ষে ক্ষতিকর হচ্ছে। এ কারণেই আইইউসিএন প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের তালিকায় রেখেছে।