বাংলাদেশ ব্যাংকের জরিপ হুন্ডিতে আসছে ৫% রেমিট্যান্স

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পুরোটাই বৈধ পথে দেশে আসছে না, এ কথা সবারই জানা। বড় অংশই হুন্ডিতে আসে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে জরিপের প্রতিবেদন তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ আসছে হুন্ডির মাধ্যমে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এ হিসাবে প্রায় ৮২ কোটি ডলার এসেছে অবৈধ পথে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে চলতি বছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বৈধ পথে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠতে উৎসাহিত হবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রতি করা ‘অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জরিপে দেশের ৬৪টি জেলার ২ হাজার ৮৭২ জন মানুষ অংশ নেয়। এদের মধ্যে রেমিট্যান্স গ্রহণ করে এমন মানুষের সংখ্যা ৩১৯ জন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ৩১৯ জনের মধ্যে ২৩১ জনের (৭২.৪ শতাংশ) ব্যাংকে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বাকি ৮৮ জন (১৩.৮ শতাংশ) ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণ করে।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট রেমিট্যান্স গ্রহীতার মধ্যে গড় হিসাবে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে এমন বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে অর্থ পায় ১৬ শতাংশ মানুষ, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ, নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পায় ১৯.১ শতাংশ মানুষ এবং নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ রেমিট্যান্স গ্রহণ করে থাকে। বাকি ১ শতাংশ মানুষ আত্মীয়স্বজনের অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ ট্রান্সফারের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পেয়ে থাকেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ পথে টাকা পাঠাতে অনেক খরচ ও ঝামেলা পোহাতে হয়। এজন্য অনেকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চান না। তবে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে চলতি বছরের বাজেটে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবেন।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে বর্ধিত ব্যয় লাঘব এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবে এবং হুন্ডি প্রবণতা কমে আসবে। এজন্য বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সার্কুলারও জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।