কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণিতে ব্যক্তিগত গাড়িচাপায় নিহত ঝিনাইদহের মাইনুল আলম সোহাগ (৪০) ও কুষ্টিয়ার ফারজানা ইসলাম তানিয়ার (২৮) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার জোহরের নামাজের পর ও বিকেলে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন হয়। এর আগে সকালে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দুজনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। দেশ রূপান্তরের ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও শার্শা প্রতিনিধি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সোহাগ ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভুটিয়ারগাতি গ্রামের অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার মতিঝিলে গ্রামীণফোনের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তানিয়া কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার চান্দুর গ্রামের মুন্সি আমিনুল ইসলামের মেয়ে। তিনি রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিটি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন। দুজনই চিকিৎসার জন্য গত বুধবার কলকাতায় গিয়েছিলেন।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে সোহাগের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছায়। সে সময় বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী, ভাই-বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। মরদেহ দেখতে এলাকাবাসী ভিড় করেন। জোহরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়।
সোহাগের মরদেহ গ্রহণকারী চাচাতো ভাই জিহাদ জানান, চোখের সমস্যা নিয়ে গত বুধবার কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে যান তার ভাই। গত শুক্রবার রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি ক্রসিংয়ের সামনে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওই সময় একটি গাড়ি ছিটকে পাশের ট্রাফিক বিটে ধাক্কা খায়। বৃষ্টির কারণে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন সোহাগ, তানিয়া ও জিহাদ। একটি গাড়ি পিষ্ট করলে দুজনেই গুরুতর আহত হন। একটু দূরে থাকায় বেঁচে যান তিনি (জিহাদ)। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কলকাতার পিজি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার চান্দুর গ্রামে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন হয় তানিয়ার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ও বাংলাদেশের বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফারজানার মরদেহ গ্রহণ করেন তার চাচাতো ভাই আবু ওবায়দা শাফিন। দুপুরের পর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। ওই সময় তার পরিবারের লোকজন ও স্বজনদের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার জন্য কলকাতার নামি রেস্তোরাঁ আরসালানের মালিকের ছেলে পারভেজ আরসালানকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। দুর্ঘটনার সময় তিনিই চালকের আসনে ছিলেন বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
পুলিশ জানিয়েছে, ২২ বছর বয়সী পারভেজ লন্ডনের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। কয়েক দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টের একাধিক ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। এছাড়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়েছে।