কিশোরগঞ্জে নয় ঘণ্টায় ৪ খুন !

কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় একদিনে জেলার চার উপজেলায় চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৩ টার মধ্যে নয় ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার পাকুন্দিয়া, মিঠামইন, কিশোরগঞ্জ সদর ও করিমগঞ্জ উপজেলায় এই খুনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্র জানায়, পাকুন্দিয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই মুকুল (৫৪) খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক মতি মিয়াকে আটক করেছে।

বুধবার সকাল সাতটা দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরটেকি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুকুল চরটেকি গ্রামের মৃত হারুন-অর-রশিদের ছেলে।

মিঠামইনের ঘাগড়া এলাকায় বাড়ির পাশে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহজাহান (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।

বুধবার সকালে ইউনিয়নের ভরানয়হাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহান একই গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে।

মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির রাব্বানী জানান, বাড়ির পাশের রাস্তা নির্মাণ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে প্রতিবেশী কামরুলের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে বুধবার সকালেও দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কামরুলের পক্ষের দেশীয় অস্ত্র বল্লমের আঘাতে শাহজাহান ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নে নাতিকে মারধরে বাধা দেয়ায় মেয়ের জামাতার ছুরিকাঘাতে মারা যান শাশুড়ি হালিমা।

বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেয়ের জামাই মো. হাবিবুর রহমান রনিকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দশ বছর আগে দানাপাটুলি গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সায়েম উদ্দিন ও হালিমা খাতুনের মেয়ে রীমার বিয়ে হয় একই এলাকার মনোহরপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান রনির সাথে। বিয়ের পর থেকে মাদকাসক্ত রনি তার স্ত্রী রীমাকে মারধর করত। এ জন্য কিছুদিন ধরে তিন বছরের শিশুসন্তানসহ বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন রীমা। দুপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী রীমার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন হাবিবুর রহমান রনি। একপর্যায়ে তার শিশুপুত্র আনন্দকে মারধর করতে থাকলে বাধা দেন শাশুড়ি হালিমা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হালিমাকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে রনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার পর ছুরি হাতে পালানোর সময় এলাকার লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সুলাল মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের সুতারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুলাল মিয়া সুতারপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।