কারা হেফাজতে আইনজীবী পলাশের মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’

পঞ্চগড় কারাগারের ভেতরে কারা হেফাজতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা আইনজীবী পলাশ কুমার রায় নিজেই গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে বিচারিক তদন্তে উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও

বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

শুনানিকালে আদালত বলে, ‘আপাতভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ আদালতে প্রতিবেদনের অংশবিশেষ পড়ে শোনান আইনজীবী পলাশের মৃত্যু ঘটনায় এর আগে বিচারিক তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা আরেক আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

প্রতিবেদনে কারাগারের ভেতরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা, সেখানে গ্যাস লাইটারের অবাধ ব্যবহার, কারাগারের ভেতরে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা না থাকা, কারা হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

পঞ্চগড় কারাগারে নিরাপত্তা এবং ওই কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজি প্রিজনকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দুজনকে জবাব দিতে হবে।

পঞ্চগড় কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আইনজীবী পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চেয়ে গত ৬ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী সাইয়্যেদুল হক সুমন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৮ মে এক আদেশে পলাশের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদনটি গতকাল উপস্থাপন করা হয়।

২০১৬ সালে আইনজীবী পলাশের বিরুদ্ধে কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির দায়েরকৃত অর্থ আত্মসাতের একটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২৫ মার্চ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন পলাশ। সেখান থেকে শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন সড়কে অবস্থান করে হ্যান্ডমাইকে সরকার, প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে কটূক্তি করায় পুলিশ তাকে আটক করে। ওইদিন তার বিরুদ্ধে রাজীব রানা নামে একজন মামলা করলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল কারা হাসপাতালের টয়লেট থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হলে ৩০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়।