নীলফামারীতে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে । এতে আমন আবাদের ভরা মৌসুমে সার কিনতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক।
তবে চড়া দামের বিষয়ে বিসিআইসির সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অভিযোগ পাল্টাপাল্টি। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খুচরা দোকানে চড়া মূল্যে সার বিক্রি হতে দেখা গেছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনছেন সার।
এ বিষয়ে কথা বললে পরিবেশকরা বলছেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন। আবার খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবেশকরা দাম বেশি নেওয়ায় কৃষকদের কাছে তা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
জেলা শহরের পুরনো রেলস্টেশন এলাকার খুচরা সার ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, ‘আমি ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে এনে বিক্রি করি। তারা যখন যে দাম ধরে সেখান থেকে একটু লাভ করে কৃষকদের কাছে বেচি।’ ওই ব্যবসায়ী প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ৯০০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং পটাশ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান।
জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা ইউরিয়া সার ৯৫০ থেকে ১ হাজার, টিএসপি (বাংলাদেশি) ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০, টিএসপি (তিউনেশিয়া) সাড়ে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ এবং পটাশ ৭৫০ টাকা দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া, পলাশবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে।
বিসিআইসির সার ডিলার ও জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার সাহা বলেন, ‘বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী এ কাজটি করতে পারেন।’
জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, ‘এবার জেলায় আমনের আবাদ বেশি হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকারি মূল্যের চেয়ে কেউ দাম বেশি নিলে তার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ বলেন, ‘আমরা আজই বাজারে নামব। দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’