চলতি মাসের শুরুতে ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি নাকচ করেছেন। গত বুধবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (ভারত) সঙ্গে আলোচনার কোনো মানে নেই। আমি মনে করি, আমি সব ধরনের আলাপ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মুহূর্তে আমি পেছন ফিরে দেখি, শান্তি ও সংলাপের জন্য আমি যতসব প্রস্তাব দিয়েছি, তারা সেগুলোকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে বলে মনে করি। এর চেয়ে বেশি কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
সংবিধানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করার মধ্য দিয়ে ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়। ওই মর্যাদা অনুযায়ী অর্থ, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ বাদে অন্য বিষয়গুলোতে নিজস্ব আইন রচনার এখতিয়ার ছিল কাশ্মীরের। ইমরান শুরু থেকেই এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেন। তিনি ভারতীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনের’ মাধ্যমে কাশ্মীরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পরিকল্পনার অভিযোগ করেন। গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শ ও নেতৃত্ব ভারতকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
কাশ্মীর নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ইমরান বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৮০ লাখ মানুষের জীবন হুমকিতে আছে। জাতিগত নিধন ও গণহত্যা আসন্ন কি না, সে বিষয়ে আমরা সবাই শঙ্কিত।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো করে ইমরান টুইটবার্তায় বলেন, ভারত কাশ্মীরিদের ধর্মীয় অনুশাসন পালনের অধিকার অগ্রাহ্য করছে। ওই বার্তায় তিনি ভারতশাসিত কাশ্মীরের ওপর ‘আসন্ন’ গণহত্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর কাশ্মীরজুড়ে কারফিউ জারি করে ভারত। নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় দেশটি। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে, যাদের মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীরাও রয়েছেন।