রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে ‘১৫ আগস্ট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা শেষে
সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এদিকে সিলেটে গিয়েও সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতেই হবে।
দ্বিতীয় দফা দিনক্ষণ ঠিক করে গত বৃহস্পতিবারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। রাখাইনে ফিরে যাওয়ার আগে নাগরিকত্বসহ পাঁচ দফা শর্ত দিয়েছে তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজি করাতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। মানবিক দিক থেকে আমাদের যা যা করার ছিল, সব করেছি। এখন রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। ভিয়েতনাম, চীন, রাশিয়া এমনকি ভারতও এখন আমাদের অবস্থানের সঙ্গে একবাক্যে সমর্থন দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলব, তারা যেন মিয়ানমারে যায়। আমরা অনেক করেছি। নিজেদের এবং এ অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু হত্যার সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল দেশের অগ্রগতি পিছিয়ে পড়া উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর বিগত ১০ বছরে আমাদের গড় প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।’
অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা অন্তত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে নিয়ে যাক। সেখানে প্রচুর খালি জমি পড়ে আছে। একাত্তরের যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু ভারত থেকে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি শরণার্থী ফিরিয়ে এনেছিলেন। নিজেদের মানুষদের দেশে ফিরিয়ে আনার এমন দৃষ্টান্ত সবার জন্য অনুকরণীয়।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতেই হবে : গতকাল সিলেটে গিয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের জন্য মিয়ানমার শান্তিতে ও নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করেছেÑ এ কথাটা তারা বিশ্বাস করতে পারছে না। তবে আমি সবসময় আশাবাদী। আমরা অবশ্যই রোহিঙ্গাদের পাঠাতে পারব। তবে এজন্য কিছুটা সময় লাগবে। তাদের আর বসিয়ে বসিয়ে আমরা খাওয়াতে পারব না।’
মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছি বলেই তারা নিতে রাজি হয়েছে। যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। মিয়ানমার আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেছে, তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে।’
ড. মোমেন আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে রোহিঙ্গা নেতাদের রাখাইনে নিয়ে তাদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটা দেখাতে মিয়ানমারের কাছে প্রস্তাব দেব। তাহলে তারা হয়তো ফিরতে রাজি হবে।’
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে না পারা কূটনৈতিক ব্যর্থতাÑ বিএনপির এ অভিযোগের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে যদি ভালো কোনো আইডিয়া থাকে, তাহলে সেটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। আমরা সেটাকে স্বাগত জানাব।’