রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গতকাল শুক্রবার নির্মাণাধীন একটি দোতলা ভবন থেকে নিচে পড়া শ্রমিককে হাসপাতালে না নিয়ে মৃত ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মো. সাগর (৩৫) নামে ওই শ্রমিকের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর থানার কাচিয়ায়। তিনি স্ত্রী ও তিন বছরের এক সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিংয়ে থাকতেন।
জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে নির্মাণাধীন দোতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে যান সাগর। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মোরশেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তাকে। তিনি
নিজেই তাকে মৃত ঘোষণা করে থানায় নিয়ে যান। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এসআই মোরশেদের দাবি, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সময় সাগরের সঙ্গে কাজ করা অন্যরা পালিয়েছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী মৃত ঘোষণা চিকিৎসকরা করবেন। পুলিশ মৃত ঘোষণা করতে পারে না। তবে পরিবার যদি ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার লিখিত আবেদন করে তখন লাশ দেওয়া যায়।’
এসআই মোরশেদ বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ৯৯৯ এর একটি কলের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ থেকে সাগর নামে এক শ্রমিক পড়ে গেছে। পরে সেখানে গিয়ে দেখি ঘটনাস্থলেই ওই শ্রমিক নিহত হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর জখম ছিল। স্থানীয়রা লাশ ঘিরে রেখেছিল। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে লাশ থানায় নিয়ে যাই। নিহতের স্ত্রী রোকসানা আক্তার (২৪) মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে না চাওয়ায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত না করতে সে লিখিত আবেদনও করে থানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাগর একটি দোকানে ইলেকট্রিকের কাজ করছিল। ভবনের কোনা থেকে অসাবধানতাবশত নিচে পাকা রাস্তার ওপর পড়ে যায়। তার সঙ্গে কাজ করা অন্যদের পাওয়া যায়নি।’ ঘটনাটি হত্যাকা- নয়, এটা কীভাবে নিশ্চিত হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যাওয়া তদন্ত কর্মকর্তা সব আলামত দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে মনে করেছে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিতে লিখিত আবেদন করে। এজন্য লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।’