শেষ খবর অনুযায়ী, আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। এর আগে এই অগ্নিকান্ডের জন্য এনজিওগুলোকে দোষারোপ করেছেন তিনি। তার মতে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে লড়ছে একটি আন্তর্জাতিক চক্রও। যদিও বিরোধীপক্ষ এবং সংরক্ষণবাদী সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্ট বলসোনারোকেই এবারের অগ্নিকান্ডের জন্য দায়ী করছে। আমাজন পুড়লে লাভ কাদের খুঁজেছেন পরাগ মাঝি
এবারের আগুনের বিশেষত্ব
রেকর্ড পরিমাণ আগুনে জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত বনভূমি আমাজন। এই বছর রেকর্ড ৭২ হাজারটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে সেখানে। এই মুহূর্তে মহা এই জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫ হাজারেরও বেশি এলাকায় এক সঙ্গে আগুন জ্বলছে। এই আগুন বিপুল পরিমাণ কার্বন ছড়িয়ে দিচ্ছে বাতাসে। কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরেও এই আগুনের কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে গেছে। ব্রাজিলের স্পেস এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ২০১৯ সালে আমাজনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা অন্তত ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে! এবারের আগুন আমাজনের বেশিরভাগ অঞ্চলেই দেখা গেছে।
প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে আমাজন বন খুব স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকে। ফলে প্রাকৃতিক কারণে বড় ধরনের অগ্নিকান্ড সেখানে খুব কমই ঘটে। রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের চিফ প্রোগ্রাম অফিসার নাইজেল সিজার বলেন, ‘শুকনো মৌসুমেও কেউ যদি আমাজনে আগুন লাগিয়ে দেয় তবে তা খুব বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে না। কিন্তু কেউ যদি কোনো এলাকার সব গাছ কেটে ফেলে এবং এগুলো রোদে শুকানোর পর কেউ আগুন ধরিয়ে দেয় তবে নিমেষেই বিশাল অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হবে এবং বড় ধরনের ক্ষতি সংঘটিত হবে।’
সিজারের মতে, অগ্নিনিয়ন্ত্রক বাস্তু সংস্থান থেকে অগ্নিপ্রবণ বনভূমিতে পরিণত হচ্ছে আমাজন। আমাজনের গাছপালা এবং প্রাণ-প্রকৃতি এ ধরনের আগুনের সঙ্গে পরিচিত নয়। তাই আগুন লাগলে খুব সহজেই বিপুল হারে এগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের বনাঞ্চলগুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কারণ ওইসব বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে অহরহই দাবানলের মতো অগ্নিকান্ড ঘটে। ফলে ওই সব অঞ্চলের গাছপালা এবং পশুপাখিও আগুনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা শিখে গেছে।
সিজার মনে করেন, প্রাকৃতিক কারণে আমাজনে বড় ধরনের আগুন আদতে সম্ভব নয়, যদি না গাছ কেটে এগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার আমাজনে হঠাৎ আগুন বাড়ার কারণ হতে পারে বনভূমি উজাড় করে কৃষিজমির বিস্তার এবং এর ফলে আমাজন অঞ্চলে সৃষ্ট পানিশূন্যতা, আর তীব্র খরা।
কেন আমাজন জ্বলছে?
আমাজনে এবারের আগুনের প্রধান কারণ হতে পারে ফার্মিং ও কৃষিজমি সৃষ্টি করার জন্য অবৈধ উপায়ে বন উজাড়। আমাজনের আগুন পরিকল্পিতও হতে পারে। শুকনো মৌসুম আগুন ছড়াতে বেশি কাজ করে।
ফার্মিং করার জন্য আমাজন বন ধ্বংস করার এই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাধারণ কৃষকদের গবাদি পশুপালনের জন্য নতুন জমির প্রয়োজন না হলেও আমাজন অঞ্চলে পশু ফার্মিংয়ের মতো একটি ধারণা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে, বন উজাড় করে চারণভূমি সৃষ্টি করলে একসঙ্গে অসংখ্য গবাদি পশুর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যবসায়িক কারণে একটি নব্য গোষ্ঠির দৃষ্টি আমাজনের মাটিতে পড়েছে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং এরইমধ্যে সম্মিলিতভাবে আমাজনের বিশাল একটি অঞ্চলের বনভূমি তারা সাবাড় করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, বন ডাকাতেরা কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে বেছে নিয়ে ওই স্থানের সব গাছ কেটে ফেলে। কেটে ফেলা গাছগুলো কিছুদিন পড়ে থাকে জঙ্গলে। এগুলো রোদে শুকায়। পরে এগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে নিমেষেই জঙ্গলাকীর্ণ একটি এলাকা বিরানভূমিতে পরিণত হয়। এভাবে, বন ধ্বংসকারীরা প্রচুর পরিমাণ কৃষি জমি কিংবা পশুপালনের জায়গা পেয়ে যায়।
রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের নাইজেল সিজারের ভাষ্যমতে, কৃষি জমি এবং ফার্মিংয়ের জন্য এইভাবে বন উজার করা ব্রাজিলের আইন অনুয়ায়ী অবৈধ্য। কিন্তু ব্রাজিলের বর্তমান সরকার এই আইনটিকে শুধু পাশ কাটিয়েই যাচ্ছে না, উপরন্তু দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এ ধরনের কার্যক্রমে উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন।
সিজার বলেন, ‘এ কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলে দেওয়া যায় যে, এই অবৈধ কর্মকান্ড এবং বন উজাড়ের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে ব্রাজিল সরকারের মৌন সম্মতি নিয়ে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রতিনিয়ত আমাজন অঞ্চলের মধ্যে থাকা নৃগোষ্ঠীগুলোকে বন ধ্বংস করার মদদ দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে তার আগের সরকারগুলো এ ধরনের ঘটনা না ঘটার জন্য প্রচেষ্টা চালাত।’
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ব্রাজিলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য অলাভজনক বনভূমির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার প্রশাসন আমাজনের বনাঞ্চল রক্ষার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে মানুষ খুব সহজেই যে যার মতো বনভূমি ধ্বংস করে জায়গা ফাঁকা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট বলসোনারো এ বছর আমাজনে অগ্নিকা- বাড়ার কারণ হিসেবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই বেসকরকারি এনজিওগুলোকে দায়ী করেছেন। তার মতে, এই সংগঠনগুলো তার সরকারকে বিপদে ফেলার জন্যই এমন কাজ করছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলসোনারো বলেন, ‘সম্ভবত, আমি নিশ্চিত নই যদিও ওই মানুষগুলো (এনজিও কর্মী) আমাকে এবং ব্রাজিল সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু দুষ্কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।’
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন বলসোনারো। এনজিওদের অবৈধ কর্মকান্ড সম্পর্কে কোনো প্রমাণ দিতে না পারলেও তিনি বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে।’ তিনি এই যুদ্ধকে ‘তথ্যযুদ্ধ’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের নাইজেল সিজার প্রায় ৩০ বছর ধরে আমাজন নিয়ে কাজ করছেন। সিজার জানান, বিগত ৩০ বছর ধরে ব্রাজিলের পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো বনভূমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে যথাসম্ভব লড়াই করেছে। ধ্বংসের হার কমিয়ে আনার সফলতাও তারা দেখিয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্টের আমলে এই ধরনের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে যেতে দেখা গেছে।
দুশ্চিন্তার কারণ সবার
আমাজনের বিপুল বনভূমি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুধু ব্রাজিলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। আমাজনের গাছপালা উজাড় হওয়ার ফলে নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে। ধীরে ধীরে কার্বনের এক মহাসমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী নামের এই গ্রহটি। এ ধরনের অগ্নিকান্ড গুলো বায়ুমন্ডলে সরাসরি কার্বন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যদি আমাজনে অগ্নিকান্ডের মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হয় তবে জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমিয়ে আনতে প্যারিস চুক্তি সফল হবে কি-না তা সবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজার রোধ এবং ৪৮ লাখ একর ধ্বংস হওয়া বনভূমি পুনর্গঠনের জন্য ব্রাজিল সরকারের নেওয়া দীর্ঘ পরিকল্পনা সফল না হলে জলবায়ু পরিবর্তনে এটি বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে।
‘আমাজন সংরক্ষণ সংঘ’-এর প্রতিষ্ঠাতা আদ্রিয়ান ফরসিত মানুষের জীবনে আমাজনের ভূমিকা বর্ণনা করে বলেন, ‘এই বন হলো বৃষ্টির সবচেয়ে বড় কারখানা। এই বন বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশজুড়ে কৃষিকাজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এই মহাদেশের সব দেশেই খাদ্যচক্রে প্রধান ভূমিকা রাখে কৃষি।’
আদ্রিয়ানের মতে, বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে থাকা কার্বন শোষণ করে বাতাসকে পরিশুদ্ধ করতে প্রধান ভূমিকা রাখে আমাজন। গ্রীষ্মম-লীয় কার্বনের সবচেয়ে বড় আধারও আমাজন। যদি এই কার্বন আকাশে ছড়িয়ে যায় তবে, জলবায়ু পরবর্তন ঠেকাতে বৈশ্বিক উদ্যোগ কোন কাজে আসবে না।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘আমাজন ওয়াচ’-এর অর্থনীতি বিষয়ক পরিচালক মোরা বিজ বলেন, ‘আমাজনের অগ্নিকান্ড খুব শিগগিরই বনাঞ্চলের কাছাকাছি থাকা উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রাখতে শুরু করবে।’
মোরা বিজের মতে, অগ্নিকান্ডের ফলে শিগগিরই এসব মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেবে। এর প্রভাব পড়বে তাদের দৈনন্দিন জীবনেও। তাছাড়া এ ধরণের দুর্ঘটনা তাদের ভূমিকেও প্রভাবিত করবে। মোটের ওপর এই অনাহুত পরিস্থিতি সামলাতে পারে কেবল যথাযথ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।
এই উদ্যোগের প্রসঙ্গে নাইজেল সিজার বলেন, ‘ব্রাজিলের পরিবেশ সংরক্ষণবাদী দলগুলোকে যথেষ্ট অর্থায়নের মাধ্যমেই সম্ভব এই পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করা।’
রাজনীতি যে ভূমিকা রাখছে
২০১৪ সাল থেকে ব্রাজিলে যে হারে আমাজন বন ধ্বংস হয়েছে এবার তার হার অন্তত ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর কারণ অর্থনৈতিক সংকট এবং ব্রাজিলিয়ান সরকারের এ সংক্রান্ত নিয়মনীতির লঙ্ঘন। এই লঙ্ঘনের শুরুটা হয়েছে ২০১৮ সালে ব্রাজিলের জাতীয় নির্বাচনে জাইর বলসোনারোর বিজয়ের পর থেকেই।
বিজয়ী হওয়ার পর বলসোনারো তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বেশ কিছু বিতর্কিত কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেন। সমালোচকরা বলেন, এসব সিদ্ধান্ত মানবাধিকার এবং পরিবেশ রক্ষায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজয়ের পরপরই মন্ত্রিপরিষদ গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে বেশ দুর্বল করে দেন বলসোনারো। ফলে বন সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিমালা এবং সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীগুলো শিগগিরই মুখ থুবড়ে পড়ে।
গত মাসজুড়ে বনভূমি সুরক্ষায় বিভিন্ন তহবিলে অর্থায়ন কমানো এবং এ সংক্রান্ত বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় ব্রাজিল সরকার। এমনকি বন ধ্বংস এবং অগ্নিকান্ড রোধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কয়েকটি কমিশনকেও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আমাজন ইস্যুতে বিশ্বের করণীয়
যেহেতু আমাজন পুরো পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে কাজ করে, তাই এই বনাঞ্চল রক্ষায় শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বকেই এগিয়ে আসা উচিত। আমাজনের সুরক্ষায় নিশ্চিতভাবে ব্রাজিল সরকারই সবচেয়ে বড় ভূমিকাটি রাখতে পারে। তবু বিশ্বের প্রথম সারির নেতাদের উচিত এই বনাঞ্চল রক্ষায় নিজেদের আরও কার্যকর ভূমিকায় নিয়ে আসা। স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অ্যামজন পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এইভাবে যদি জলবায়ু এবং সংরক্ষণ নীতিগুলো আবারও যথাযথভাবে প্রয়োগ করে তবে আখেরে তা কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সফলতা নিয়ে আসবে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তার সঙ্গে ব্রাজিলের একটি বড় যোগ রয়েছে। ফলে ব্যাবসায়িক শর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইলে ব্রাজিলকে পরিবেশ সংক্রান্ত এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় এ ব্যপারে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে ব্রাজিল। দেশটির মোট জিডিপিতে ২০ শতাংশ ভূমিকা রাখে কৃষিজ পণ্য রপ্তানি।
আমাজন সুরক্ষায় ব্রাজিলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক অর্থায়নেও ক্ষতিকর প্রভাব রেখেছে। আমাজন সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নরওয়ে এবং জার্মানি হলো সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করা দেশ। সরকারি অসহযোগিতার ফলে এই দুটি দেশ ইতিমধ্যেই তাদের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সংগঠনের মিলিত চাপ বনভূমি পুনর্গঠনের টার্গেট পূরণ থেকে শুরু করে ব্রাজিলকে তা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।
যেভাবে সমাধান সম্ভব
অবৈধভাবে বনভূমি উজাড় ঠেকাতে ব্রাজিলে ইতিমধ্যেই একটি রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আমাজনে বনাঞ্চল ধ্বংস সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০০৪ সালে। কিন্তু যথাযথ সরকারি উদ্যোগ এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সে সময় এই বনভূমি রক্ষায় বেশ কিছু জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও আমাজন সংশ্লিষ্ট মাংস এবং সয়া পণ্য বয়কটে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ঐকমত্য ও চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তি অনুযায়ী, তারা বন উজাড় করে যেসব প্রতিষ্ঠান পশুপালন এবং সয়া পণ্য চাষ করে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই বন ধ্বংস করার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
আগের মতো আবারও অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে আমাজনকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। এই পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে।
‘অ্যামজন সংরক্ষণ সংঘ’-এর প্রতিষ্ঠাতা আদ্রিয়ান মনে করেন, যথাযথ সরকারি প্রচেষ্টাই পারে এই ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে।
তার মতে, ব্রাজিলের দরকার একটি আলোকিত নেতৃত্ব। যিনি অবৈধ বনভূমি উজার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, যেভাবে তারা ইতিপূর্বে ডাকাতি এবং খুনোখুনি অনেকাংশে কমিয়ে এনেছেন।