ধর্ষণচেষ্টায় বাধা পেয়ে হত্যা পিটুনিতে বখাটে নিহত

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে গতকাল শনিবার ভোররাতে বাড়িতে ঢুকে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার সময় বাধা দিলে ছুরি মেরে ছাত্রীর মামা হাসান আলীকে (২৬) হত্যা করেছে বখাটে। একই সঙ্গে নানা হামিদুল ইসলাম ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বখাটে আকবর আলীকে (৩৫) আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলে তারও মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেশী শামসুল ইসলাম জানান, ওই স্কুলছাত্রীর মা মারা যাওয়ার পর ৬ বছর বয়স থেকে নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে। সে নীলমনিগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বখাটে আকবর আলীর বাড়ি দামড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামে। সে ওই এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে ভ্যানে করে গ্রামে সবজি বিক্রি করত। গ্রামবাসীর অভিযোগ, এর আগে রাত দেড়টার দিকে আরেক বাড়িতে প্রবেশ করে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে আকবর। ওই সময় তাকে ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়। এরপর স্কুলছাত্রীর নানার বাড়িতে ঢোকে সে।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের পঙ্গু হামিদুল ইসলামের বাড়িতে গতকাল ভোররাতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে এলাকার সবজি বিক্রেতা আকবর। এরপর হামিদুল ইসলামের স্কুলপড়–য়া নাতনির ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই ছাত্রী আত্মচিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় আকবর তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মামা হাসান আলী। গুরুতর আহত হন নানা হামিদুল ইসলামসহ ওই স্কুলছাত্রীও।

স্থানীয় মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার জানান, পরিবারের আত্মচিৎকারে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় ওই দুর্বৃত্তকে আটক করে গণপিটুনি দিতে শুরু করলে ঘটনাস্থলেই আকবর আলীর মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু জানান, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের কারণে হামিদুল ইসলামের শরীরে অসংখ্য ক্ষত হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়েছে। স্কুলছাত্রীর বাঁ হাতসহ বেশ কয়েক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সকালে আমিরপুর গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হামিদুল ইসলামের পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ছিলেন তার ছেলে হাসান আলী। গ্রামের বিত্তশালীদের মাঠে, বাড়িতে কাজ করেই কোনো রকমে সংসার চালাতেন। একমাত্র ভাগ্নীকেও লেখাপড়া করাতেন। তার এমন মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চতায়।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। দুুপুরে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের জন্যই মূলত ওই বাড়িতে হানা দেয় গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলী। আমরা প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছি। তিনি আরও জানান, কৃষক হাসান হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা এখনো করা হয়নি। তারা মামলা করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে গণপিটুনিতে নিহতর ঘটনায়ও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।