আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর বাকি চার বিভাগে দলের সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।
তিনি আরও জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কোরবানির ঈদের আগে খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বিভাগীয় সমাবেশ হয়েছে। এই তিন বিভাগের সমাবেশ সামনে রেখে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে বাকি চার বিভাগের সমাবেশ ছাত্রদলের কাউন্সিলের পর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, কাশ্মীর ইস্যু, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬ জনকে আত্মসমর্পণের আদেশ এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এদিকে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, তারা গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভাগের সব জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ১২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদলের নেতারা বিএনপি নেতাদের জানান, তাদের কাউন্সিলের আগে বিভাগীয় সমাবেশ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংগঠনের নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। এমনটা হলে ছাত্রদলের কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের এমন বক্তব্যের বিষয়টি মাথায় রেখে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বিভাগীয় সমাবেশ করার চিন্তাভাবনা চলছে। বিষয়টি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি সম্মতিও দিয়েছেন।
আমাদের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর দক্ষিণ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা হয়। সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় করার পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। দল পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আর কোনো কমিটি হবে না। তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১৩টি ভাগে সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকা- মনিটরিং করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী রানা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। অংশ নেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খুররম খান চৌধুরী, ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, নূরজাহান ইয়াসমীন, জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শামীম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম প্রমুখ।
বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তারাও রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ করতে চান। কারণ বর্ষার কারণে এখন সমাবেশ করার উপযুক্ত মাঠগুলো ভেজা থাকছে।
সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহিদ দেশ রূপান্তরকে জানান, এই বিভাগে সমাবেশের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের পর সিলেটে সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।