মিয়ানমারের ইচ্ছা পূরণ করছে সরকার : বিএনপি

মিয়ানমারের ইচ্ছা পূরণে সরকার কাজ করছে বলেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে মনে করে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করে দলের এমন অভিমতের কথা জানানো হয়। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। মিয়ানমার যে ফর্মূলা দিয়েছে সেই ফর্মূলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ যে, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থীর প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তার সমাধান হয়নি। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়াÑ এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এ কারণে বিএনপি মনে করছে মিয়ানমারের যে ফর্মূলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পূরণ করার জন্য সরকার কাজ করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সরকারের ব্যর্থতাও দায়ী। রোহিঙ্গা সমস্যার কীভাবে সমাধান আসতে পারেÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল সব রাজনৈতিক দলকে ডেকে বৈঠক করার জন্য। এ সমস্যার সমাধানে জাতীয় ঐক্যের দরকার ছিল। সবাই একসঙ্গে বসলে সমাধান বেরিয়ে আসতই। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথমে দরকার ছিল সরকারপ্রধানের সেসব রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্য স্টেটের সঙ্গে দেখা করাÑ যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেটা এখনো তারা করেনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একুশে আগস্টের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রীদের বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। এ সময় এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যে র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে হবে আলোচনা সভা। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।