টিটি, ব্যাংক ড্রাফটেও চলবে নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য

নেপাল থেকে ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। দেশটির কৃষকরা এসব পণ্য রপ্তানি করায় তাদের পক্ষে ঋণপত্রের বা এলসি ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে এলসির পাশাপাশি টেলিফোনিক ট্রান্সফার (টিটি) ও ব্যাংক ড্রাফট চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। ভারত ও চীন নেপালের সঙ্গে বাণিজ্যে এলসির পাশাপাশি টিটি ও ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি করছে বলেও জানায় দেশটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ডিসেম্বরে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমসের প্রথম সভায় নেপাল জানায়, নেপালি আমদানিকারকরা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পণ্যমূল্য পরিশোধ করেন টিটি ও ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশি আমদানিকারকরা নেপালের রপ্তানিকারকদের পণ্য মূল্য এলসির মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকেন। ফলে নেপালি কৃষকসহ ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকদের পক্ষে এলসি ব্যবহার করে রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাংলাদেশি নেপালি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটি এলসির পাশাপাশি টিটি ও ব্যাংক ড্রাফট গ্রহণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেয়। নেপালের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ১৫ জুলাই এনবিআর সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমানের আন্তঃসংস্থা বৈঠকে বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যমানের ডলারে ইস্যুকৃত টিটি বা ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। নেপালের প্রস্তাব সম্পর্কে এনবিআর থেকে মতামত চাওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, ব্যাংকিং অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তির আওতায় ব্যাংক ড্রাফট বা টিটি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য চলছে। তাই বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে টিটি বা ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।