যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের অভিযোগে মাহীকে জিজ্ঞাসাবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের সদস্য মাহী বি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায়

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কমিশনের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের অভিযোগে মাহী বি চৌধুরীর স্ত্রী আশফাহ হককেও তলব করা হয়। তিনি দুদকে হাজির হননি।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহী বি চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বলেন, একটি অভিযোগ এসেছে আমার নামে। দুদক সেই অভিযোগের তদন্ত করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমার বক্তব্য নেওয়ার দরকার ছিল। দুদক আমাকে ডেকেছে, আমি কথা বলেছি। আগামী ২৭ তারিখ (আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে আমি আমার পুরো বক্তব্য খোলাসা করব। এর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, অভিযোগের ভিত্তি কতটুকু, সেগুলোর জবাব অবশ্যই আমি দেব। তিনি বলেন, আমি মনে করি দুদকে যেহেতু অভিযোগগুলো এসেছে দুদক প্রকৃত অথরিটি। সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সময় দরকার। অনুসন্ধান কর্মকর্তা আমার কাছে যেসব তথ্য চেয়েছে, আমি তাদের সেগুলো দেব। কমিশন তার মতো করে কাজ করবে। পাশাপাশি আমারও কিছু কাজ করতে হবে।’

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মাহী বি চৌধুরী বলেন, প্রমাণের কিছু নেই, আমি নির্দোষ। ২৫ দিন ধরে চুপ আছি, কারণ ট্রায়াল চলছে। এখন যার যা ইচ্ছা এক তরফাভাবে বলছে। এও দেখেছি যে, হকাররা বলে বেড়াচ্ছে মাহী বি চৌধুরীর ছয়টি বাড়ি। এগুলোও দেখছি, এগুলো পলিটিক্যাল ট্রায়াল। তিনি বলেন, দুদকে ‘অভিযোগ’ আসার সঙ্গে সঙ্গে যদি মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায়, যারা ‘ষড়যন্ত্র’ করে তারা এটি প্রচার করে অন্যভাবে। এসব অভিযোগ নির্বাচনের আগে থেকে আসা শুরু হয়েছে। এগুলো একই অভিযোগ, এটা মিথ্যা প্রমাণ করা কঠিন কোনো বিষয় নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ৪ অগাস্ট মাহী বি চৌধুরী ও তার স্ত্রীকে বারিধারার ঠিকানায় দুটি নোটিস পাঠিয়ে ৭ আগস্ট কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য আরও সময় চেয়ে তারা ৭ আগস্ট কমিশনে আবেদন করেন। এই প্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট তাদের কমিশনে হাজির হওয়ার সময় দিয়ে আবারও চিঠি পাঠানো হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বিকল্পধারার সংসদ সদস্য। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগ রয়েছে মাহী ও তার স্ত্রী আশফাহ হকের বিরুদ্ধে।

গত জুন থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ।