১৬০০ স্থানে নতুন করে আগুন

মহাবন আমাজন ১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে। নতুন করে বনাঞ্চলের ১ হাজার ৬০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। নতুন করে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে ছয়টি রাজ্য।

গত শনিবার দেশটির পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো সেলেস জানান, সেনা সহায়তা চাওয়া রাজ্যগুলো হচ্ছে পারা, রন্ডোনিয়া, রোরাইমা, টোকানটিন্স, একর ও ম্যাটো গ্রোসো।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই ৪৪ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফার্নান্দো আজেভেদো। যেসব রাজ্য থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে সেসব রাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি সি-১৩০ হারকিউলিস এয়ারক্রাফট ব্যবহার করবেন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এসব এয়ারক্রাফট ১২ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম।

ফার্নান্দো আজেভেদো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার কথা বললেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা দিচ্ছে না। এক ফোনকলে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে ওই সহায়তার প্রস্তাব

দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে নীরব থাকলেও আমাজনকে বাঁচাতে বিমান থেকে পানি ঢালার উদ্যোগ নিয়েছে বলিভিয়া। আগুন নিয়ন্ত্রণে সুপারট্যাংকার বোয়িং বিমান ৭৪৭-৪০০ ভাড়া করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার থেকেই আকাশপথে ওই সুপারট্যাংকার নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে যেকোনো পদক্ষেপকে সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

আমাজন ধ্বংসের মাধ্যমে ব্রাজিল সরকার আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ পরিবেশবাদী। দেশটির একজন শীর্ষ বিজ্ঞানী সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্স স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক কার্লোস নোবরে মনে করছেন, এই পথ থেকে ব্রাজিল সরকারকে সরানোর একমাত্র উপায় আন্তর্জাতিক চাপ।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো সরকারের আমলে বন ধ্বংসের গতি তীব্র হয়েছে। পরিবেশ সংস্থাকে দুর্বল করে এবং খনিওয়ালা, কৃষক ও কাঠুরেদের সমর্থন দিয়ে বলসোনারোর সরকার বনাঞ্চল ধ্বংসে উৎসাহ দিচ্ছে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। এর পরিণতি ভয়ংকর হবে।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ জানিয়েছে, ২০১৯ সালের এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার দফায় অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে এ বনভূমি। তবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের আগুন সবচেয়ে ভয়াবহ।