রিভিউ খারিজ

মওদুদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিচার চলবে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে গেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার বিচার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে চলতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

দুদকের করা ওই মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে

ব্যারিস্টার মওদুদের করা আবেদন এর আগে খারিজ হয়েছিল। এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন তিনি। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখলে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন করেছিলেন মওদুদ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গতকাল রবিবার তা নাকচ করে আদেশ দেয়।

আদালতে মওদুদ আহমদ নিজেই শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। দুদক আইনজীবী জানান, ইতোমধ্যে এ মামলায় ৪৫ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলতে আইনি কোনো বাধা নেই। ঢাকার ছয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

দুদকের আইনজীবী আরও বলেন, ‘এই মামলা নিয়ে মওদুদ আহমদ অন্তত ১৫-২০ বার হাইকোর্টে এসেছেন। আমরা প্রত্যেকবার আদালতকে দেখিয়েছি যে যেখানে সাক্ষী হয়ে গেছে, সাক্ষী হওয়ার পর তিনি তার আয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। হাইকোর্ট তাকে বলেছিল যে তিনি সাফাই সাক্ষ্য দিতে পারবেন।’

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। তদন্ত শেষে পরের বছরের ১৪ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৭ সালের জুলাইতে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। এছাড়া তার নামে ৭ কোটি ৩৮ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য মেলে যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

এ মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে গত ৪ মার্চ বিচারিক আদালতে আবেদন করেন মওদুদ আহমদ। সেখানে আবেদনটি নাকচ হওয়ার পর হাইকোর্টে তার করা আবেদনটি গত ৮ এপ্রিল খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন করার পর শুনানি নিয়ে গত ১৪ মে সেই আবেদনটি খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। পরে ওই আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন এই বিএনপি নেতা।