চট্টগ্রাম কারাগারে দুর্নীতি

সাবেক আইজি প্রিজনসকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

চট্টগ্রাম কারাগারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের

প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুপের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দলের অন্য সদস্য ছিলেন উপপরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি চিহ্নিত করতে না পারাকে নিজের ব্যর্থতা বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, দুটি দুর্ঘটনা ঘটল। সেগুলোর কারণে উনারা (দুদক) তদন্ত করছেন। সেটা তদন্ত করে দুদক মতামত দেবে। মূলত তাদের ব্যাপারে আমার কী কথাবার্তা আছে, আমি পদক্ষেপ নিয়েছিÑ সেগুলো বলেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই আইজি প্রিজনস বলেন, ‘সংস্থার প্রধান হিসেবে আমি দায় এড়াতে পারি না। এটা আমার প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলা যেতে পারে। তাদের এই দুর্নীতি আমি আইডেন্টিফাই করতে পারিনি, বলতেই হবেÑ এটা আমার ব্যর্থতা। বাকিটুকু প্রমাণসাপেক্ষ। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটা দুদক বলবে।’

২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর আইজি প্রিজনস হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। তিনি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছর ওই দায়িত্ব পালন করেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ৪ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় চট্টগ্রাম কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার (বর্তমানে বরিশালের জেল সুপার) প্রশান্ত কুমার বণিককে। গত ২৮ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সিলেটের ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিককে। তিনি চট্টগ্রামের ডিআইজি প্রিজনস ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বাসায় ৮০ লাখ টাকা রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে তার বাসা থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, গত বছর অক্টোবরে ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। সেখানে তল্লাশির একপর্যায়ে তার দুটি ব্যাগ থেকে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (এফডিআর), ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই, ডিএসএলআর ক্যামেরা ও ১২ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় উঠে আসে চট্টগ্রামের তৎকালীন ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক ও জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের নাম। সোহেল রানা পুলিশের কাছে দাবি করেন, উদ্ধার করা টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা তার এবং বাকি ৩৯ লাখ টাকা পার্থ বণিক ও প্রশান্ত বণিকের। ওই ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে পার্থকে সিলেটে ও প্রশান্তকে বরিশালে বদলি করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে থাকার সময় পার্থ গোপাল বণিক দুর্নীতি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিদিন সেখানে গড়ে ৩০ লাখেরও বেশি টাকা অবৈধভাবে আদায় হতো। দুদকের তথ্যমতে, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বন্দি বেচাকেনা, হাসপাতালে ভর্তি, ক্যান্টিনের অবৈধ আয় এবং মাদক ব্যবসা থেকে এসব অর্থ আসত। আর সেটা বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাটোয়ারা হতো। এ কাজে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক ও জেল সুপার সোহেল রানা।

ডিআইজি প্রিজনস পার্থ ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন। দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে তিনি।