সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘গোলাগুলি’তে ৩ ইউপিডিএফ কর্মী নিহত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ, প্রসিত গ্রুপ) তিন সদস্য নিহত হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গতকাল সোমবার উপজেলার বরাদম এলাকায় সেনাবাহিনীর টহলের সময় এ ঘটনা ঘটে এবং সেখান থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইউপিডিএফ বলছে, সংগঠনের তিন সদস্যকে কৃপাপুর এলাকা থেকে তুলে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে বিনন্দাচোখ এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতরা হলো দীঘিনালার মেরুং বেতছড়ি গ্রামের ধন্যসেন চাকমার ছেলে নবীন জ্যোতি চাকমা (৩৮), ইন্দ্রমুনি পাড়ার তঙ্যারাম চাকমার ছেলে ভূজেন্দ্র চাকমা (৫২) ও হাচিনসনপুর গ্রামের সুজিত প্রিয় চাকমার ছেলে রুচিল চাকমা ওরফে রাসেল (২৬)।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সেনা টহলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সৈনিক নাসিম (১৯) নিহত হন। পরে গত শুক্রবার জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর টহল দলের সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য সুমন চাকমা (৩৫) নিহত হয়। সে দেড় বছর আগে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার আসামি ছিল।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গোপন সংবাদে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) দলের ৭-৮ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে দীঘিনালা সেনা জোন থেকে একটি সেনা টহল বরাদম এলাকায় পৌঁছায়। সন্ত্রাসীরা সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। সেনাবাহিনীর টহল দল তৎক্ষণাৎ পাল্টা গুলিবর্ষণ করে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ১০-১৫ মিনিট গোলাগুলি হয়। সেনাসদস্যদের চাপের মুখে সন্ত্রাসী দল পিছু হটতে বাধ্য হয়। উক্ত গোলাগুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) দলের তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়।’

এতে আরও বলা হয়, ‘পরবর্তীতে সেনা টহল উক্ত এলাকায় তল্লাশি করে ২টি পিস্তল (৮ রাউন্ড গুলিসহ), ১টি আমেরিকান এম-৪ অটোমেটিক কারবাইন (৪ রাউন্ড গুলিসহ) উদ্ধার করে। অভিযান চলাকালে একাধিক সন্ত্রাসী আহত হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। পরবর্তীতে দীঘিনালা থানা হতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ তিনটি নিয়ে যায়।’

বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।

ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমার অভিযোগ, ‘দীঘিনালার কৃপাপুর গ্রাম থেকে নিরাপত্তা বাহিনী সংগঠনের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনো গোলাগুলির ঘটনা সংঘটিত হয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়।’

তারা এ হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলেও ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাগড়াছড়ির সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রওনক আলম জানান, দোজাপাড়া এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো হস্তান্তর করা হবে।