পরাজিত শত্রুরা যেন প্রশ্রয় না পায় : গণপূর্তমন্ত্রী

স্বাধীনতার পরাজিত শত্রু যেন কোনোভাবে বাংলাদেশে প্রশ্রয় না পায় সেজন্য সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, একই সঙ্গে যার রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে সংস্থাটি আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৯ উপলক্ষে’ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জাগৃকের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন, রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন বক্তব্য রাখেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন সত্তা নিয়ে জেগে ওঠা একটি রাষ্ট্রকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাবধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে হত্যা করতে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে একুশ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত জিয়াউর রহমানও অনাকাক্সিক্ষত হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়েছিলেন। খালেদা জিয়া স্বামী হত্যাকারীদের বিচার করলেন না। খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানও তার বাবার খুনিদের বের করে বিচারের পথ উন্মুক্ত করলেন না। অপরদিকে শেখ হাসিনা ৩৪ বছর অপেক্ষা করে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে বাবার খুনিদের বিচার করে তাদের দর্প চূর্ণ করেছেন। সামরিক শাসকরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডসহ অন্যান্য হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আজ সে জায়গা থেকে আমরা ফিরে এসেছি।’ 

রেজাউল করিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে সবার একটা জায়গায় এক হওয়া দরকার। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, রাষ্ট্রের বিরোধী দলেও থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। আমরা চাই স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা যেন কোনোভাবে বাংলাদেশে প্রশ্রয় না পায়। আমরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। ৭১-এ যারা বিজয়ী হতে পারেনি তারা ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সাময়িক বিজয়ী হয়েছিল। ১৫ আগস্টের পর আমরা যখন ঘুরে দাঁড়ালাম তখন তারা ২১ আগস্টের ঘটনা ঘটাল। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট এগুলো ইতিহাসের পরাজিত শক্তিদের বারবার অপচেষ্টার একেকটা স্টেপ।’