স্ত্রীর ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় স্বামীকে এসিড নিক্ষেপ

নোয়াখালীতে স্ত্রী ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এসিড নিক্ষেপ করে স্বামী নাসির উদ্দিনের (৪২) শরীর ঝলসে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ২৪ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত রবিবার শহরের মাইজদীতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন নাসির উদ্দিন। বাড়ি ফিরলে ধর্ষণ মামলার আসামি বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন তাকে হুমকি দেয়। পরে রাত ৩টার দিকে বাড়িতে বের হলে এসিড নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। 

গত ১৬ মে সুবর্ণচরে গৃহবধূ (৩২) গোসল করার সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে স্থানীয় বিএনপি নেতা জয়নাল। পরদিন চরজব্বর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করে। তিন দিন পর আদালতে মামলা করলে পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই থেকে তদন্তের অগ্রগতি হয়নি। গ্রেপ্তার হয়নি ধর্ষণ মামলার আসামি জয়নাল। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইর সাব ইন্সপেক্টর জহিরকে। বাদী নাসির যতবার পিবিআই অফিসে গেছেন ততবারই আসামি জয়নালকে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখেছেন। এরপর নাসির আদালতে পিবিআইর প্রতি অনাস্থা দিয়ে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন গ্রহণ করে পরবর্তী তারিখে শুনানি করে আদেশ দেবে বলে জানায়। পিবিআইকে অনাস্থা দেওয়ার কারণে জয়নাল ও তার সহযোগীরা হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

এসিডদগ্ধ নাসিরের মা আরজান বেগম জানান, তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের বিচার দাবিতে রবিবার নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পর জয়নালসহ রাসেল, জাকের, ফারুখ, মন্নানসহ কয়েকজন হুমকি দেয়। এরপর রাত ৩টার দিকে নাসিরকে এসিড নিক্ষেপ করে। ডাকচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভর্তির ৯ ঘণ্টা পর নাসিরের জ্ঞান ফিরে আসে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্লা জানান, নাসিরের জ্ঞান ফিরেছে। সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে। তার হাতে, পিঠে, পায়ে ও নিতম্বে এসিডদগ্ধে শরীরের ২৪ ভাগ পুড়ে গেছে।

এ ব্যাপারে জরজব্বর থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল গতকাল দুপুরে জানান, তিনি ঘটনা শুনেই হাসপাতালের দিকে যাচ্ছেন। ভিকটিম ও তার আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।