রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানের ভর্তির তথ্য আনতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না এ প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
আইনজীবীরা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, শিক্ষা সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, বাড্ডা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা), ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আবদুল হালিম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। তাসলিমা বেগম রেনুর বোন নাজমুন নাহার নাজমা ও আরেক বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিনের পক্ষে ইশরাত হাসান এ রিট আবেদনটি করেন।
আবদুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু গণপিটুনির নামে এভাবে একজন নারীকে পিটিয়ে মারা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ওই নারীকে বাঁচাতে রাষ্ট্রের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায় ছিল। এই দায় কেউ এড়াতে পারে না। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রেনুর পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছে।’
একই আদালত একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত সোমবার (২৬ আগস্ট) শুনানি নিয়ে গণপিটুনি প্রতিরোধ ও ব্যক্তিকে গণপিটুনি থেকে রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। একই সঙ্গে উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনির শিকার তাসলিমা বেগম রেনুসহ অন্যদের জীবন রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং গণপিটুনিতে নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানের ভর্তির তথ্য নিতে যান তাসলিমা আক্তার রেনু। তিনি মহাখালীতে থাকতেন। ১১ বছরের একটি ছেলে এবং চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তার। ঘটনার দিন ওই স্কুলে ছেলেধরা সন্দেহে তাকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেয় সেখানকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝড় ওঠে। এ মামলার মূল আসামি সবজি বিক্রেতা হৃদয়সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।