একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজশাহীর পুঠিয়ায় হত্যা, গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. আবদুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।
১৭৪ পৃষ্ঠার এ রায়ে সামাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা চারটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চারটিতেই তাকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার আগে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া সামাদ স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পুঠিয়ার বিভিন্ন গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন বলে মামলার বিচারে উঠে এসেছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এটি ৩৯তম রায়।
মামলার আসামি সামাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে গত ৮ জুলাই রায়টি অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানি করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় সামাদ পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান। এ সময় চারজন সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ১০টি বাড়িতে লুণ্ঠন এবং ৫০-৬০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন তিনি।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগের সবকটি আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনাল তাকে সবগুলোতে মৃত্যুদ- দিয়েছে। পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, যে অপরাধ আসামি করেছে তাতে মৃত্যুদ-ই তার জন্য সম্পূর্ণ সাজা নয়, এর চেয়ে বেশি সাজা থাকলে সেটি তার জন্য প্রযোজ্য হতো।’ আসামির আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, ‘আমরা ট্রাইব্যুনালে দেখিয়েছি একাত্তরে আসামির বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এই বয়সে একজন মানুষ এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে পারেন না। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি তিনি সেখানে ন্যায়বিচার পাবেন।’
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এ মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর সামাদসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত চলার সময় অন্য পাঁচ আসামি মারা যান। ২০১৭ সালের মার্চে সামাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।