জেলা, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এই বিরক্তি প্রকাশ করেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় ‘কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল মানিকগঞ্জ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্প সম্পর্কে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, সেখানেও
চিকিৎসকরা যেতে চান না। তখন বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অঞ্চলে আমরা ডাক্তারদের দিই, কিন্তু ডাক্তার সেখানে যেতে চায় না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ডাক্তাররা চাকরি করেন এক জায়গায়, প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন আরেক জায়গায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তার আমরা দিই, কিন্তু ডাক্তার যেতে চায় না। এটা তো আমাদের চেষ্টা করতে হবে মিটমাট করার জন্য। ডাক্তাররা যেখানে চাকরি করেন, সেখানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে তবুও হয়তো কিছুটা ভালো হতো। যখন চাকরি করেন এক জায়গায়, প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন আরেক জায়গায় বা পার্টটাইম পড়ান আরেক জায়গায়, তখন তারা হাসপাতালে থাকতে পারেন না।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ কথাগুলো প্রধানমন্ত্রী এর আগেও বলেছিলেন, আজকে আবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
উল্লেখ, এর আগে সরকারি সব হাসপাতালে ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার জন্য আলাদা কর্নার রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সব সরকারি হাসপাতালে আইসিইউর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, প্রকল্পের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত সেবা দেওয়ার প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরি করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবারের সভায় ৫ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।