সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় নারী-শিশুসহ ১৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। বুধবার ভোরে উপজেলার দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকা থেকে কানাইঘাট থানা পুলিশ তাদের আটক করেছে।
এরা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দালাল ও রোহিঙ্গাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালককেও আটক করা হয়েছে।
আটক রোহিঙ্গারা হলো- ফরিদ মিয়া (৫০), ছালেহা বেগম (৩৫), মীর জাহেদ (১২), মুজিবুল হক (৮), জাবুল হক (৪), আজিজুল হক (৩), মো. ওয়ারেজ (২৮), দেনোয়াজ বেগম (২৬), তাছলিমা (৪), মোস্তকিমা (৩), মমতাজ বেগম (১৮), মো. শফিক (২৭), সৈয়দ আলম (৩০) ও কামাল হোসেন (৩০)। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে।
এছাড়া তাদের সাথে আটক করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের মো. নুরুল্লাহ (২৪) ও মাইক্রোবাস চালক কানাইঘাটের নারাইনপুর গ্রামের তজলুর রহমানের ছেলে আব্দুল মালিককে (২৩)। আটক মো. নুরুল্লাহ রোহিঙ্গাদের অবৈধ পথে ভারতে পাচারের জন্য কানাইঘাটে নিয়ে এসেছিল।
কানাইঘাট থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা জানান, আটক রোহিঙ্গারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে প্রথমে তারা কুমিল্লায় আসে। পরে তারা ট্রেনে করে সিলেটে পৌঁছে। সিলেট রেল স্টেশন এলাকায় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় দালাল মো. নুরুল্লাহ। এরপর নুরুল্লাহ একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে তাদের নিয়ে কানাইঘাটের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়।
ওসি আরো জানান, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে কক্সবাজারের একটি শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। তাদের কিছু আত্মীয়-স্বজন ভারতে শরনার্থী হিসাবে রয়েছে। তাই তারাও দালালের মাধ্যমে ভারতে যেতে চেয়েছিল।
ওসি জানান, আটক রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে।