গৃহবধূর দ্বিতীয় স্বামীকে হত্যার দায়ে প্রথম স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে খুলনার আদালত। এ ছাড়া, খুলনার বটিয়াঘাটার আনন্দ মন্ডল হত্যা মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে আরাফাত হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে সাতজনকে। ফরিদপুরের ভাঙ্গার একটি দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় আদালত এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে। ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
খুলনা : এক গৃহবধূর দ্বিতীয় স্বামীকে হত্যার দায়ে প্রথম স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ওই গৃহবধূর নিহত স্বামীর নাম আবুল বাশার ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম স্বামীর নাম মো. খোকন। খোকন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নজির মোল্লার ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর খুলনা মহানগরীর নবপল্লী মসজিদ গলিতে ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খোকন ২০১৫ সালে তার স্ত্রীকে তালাক দেন। একই বছরে ওই গৃহবধূ নবপল্লী এলাকার আবুল বাশারকে বিয়ে করেন। কিন্তু ওই অবস্থায় খোকন আবুল বাশারের কাছে তার তালাক দেওয়া স্ত্রীকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় খোকন ওই বছরের ৬ নভেম্বর ভোরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাশারকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
অন্যদিকে, বটিয়াঘাটার আনন্দ মন্ডল হত্যা মামলায় আটজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো এ আদেশ দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন প্রমোদ মন্ডল, অশোক মন্ডল, অমর মন্ডল, নির্মল ওরফে নিমাই মন্ডল, গোলক মন্ডল, রমেশ মন্ডল, নিশাকর মন্ডল ও বিকাশ বালা।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ৩০ মে রাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বটিয়াঘাটা উপজেলার হোগলাবুনিয়া সুইচ গেটের কাছে আনন্দ মন্ডলকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় আসামিরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২ জুন আনন্দ মন্ডল মারা যান।
নারায়ণগঞ্জ : আরাফাত হত্যা মামলায় সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরাফাতকে ২০১০ সালে ক্রিকেট খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করায় এ দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফালাইন্নার ছেলে সজীব, মৃত মোহন মিয়ার ছেলে রাসেল, হারুন অর রশিদের ছেলে জয় আহমেদ ওরফে জাহিদুল ইসলাম। সাজাপ্রাপ্ত অপর চার পলাতক আসামি হলেন রফিকুল্লা ওরফে রফিকের ছেলে ইছব ওরফে ইউসুফ, মৃত আফজালের ছেলে রফিকুল্লা ওরফে রফিক, চান মিয়ার ছেলে দেলোয়ার ওরফে দেলু এবং আবু তালেবের ছেলে শামীম। গতকাল বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শেখ রাজিয়া সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।
ফরিদপুর : ভাঙ্গার একটি দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় আদালত একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলমগীর কবির এ রায় দেন। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলেন সুনামগঞ্জ জেলার গামারিতলা এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে খালেক মিয়া। রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ১০ জুলাই দলবদ্ধ ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে।