কবরস্থানে ঠাঁই ৩ পরিবারের

চৌহালী উপজেলার খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী গ্রামের যমুনা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব তিন পরিবার ঠাঁই নিয়েছে কবরস্থানে। সব হারিয়ে সেখানে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ যেন মৃত্যুর আগেই কবরস্থানে বাস।

এলাকাবাসী জানায়, গত পাঁচ বছরে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে উপজেলার খাসপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভূতের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকার চার হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাকা সড়ক, তিনটি মসজিদ ও দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। শুধু চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যমুনার গর্ভে মিটুয়ানী ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর চলে গেছে। এতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে অসংখ্য পরিবার। এর মধ্যে ওই তিন পরিবারের ১৫ জন উপায় না দেখে কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

কবরস্থানে আশ্রয় নেওয়া আতর আলী (৭৫) বলেন, ‘প্রয়োজন কোনো আইন মানে না। কবরস্থানে বসবাস ধর্মীয় বিধানবহির্ভূত হলেও নিরুপায় হয়েই এখানে থাকছি। এখান থেকে তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাব? তিনি আরও বলেন, ‘এক সময় কবরস্থানের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে ভয় পেতাম। আর এখন বাধ্য হয়ে সেই কবরস্থানের ভেতর বসবাস করছি।’

খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার রবিউল ইসলাম জানান, ভিটে হারানো এ পরিবারগুলোকে মানবিক কারণেই কবরস্থান থেকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত তাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মাঠ, পরিত্যক্ত জায়গা ও ওই কবরস্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু তাহির জানান, মিটুয়ানী কবরস্থানে কয়েকটি পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছে শুনেছি। মানবিক কারণে তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। একটা ব্যবস্থা হলে তাদের অন্যত্র নেওয়া হবে।