চাকরির কথা বলে ক্লিনিকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় তরুণীকে

রাজধানীর শ্যামলীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। তরুণীর অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামলীর হেলথ ভিশন নামে একটি অফিসে তিনি ধর্ষণের শিকার হন। কৌশলে সেখান থেকে বাসায় ফিরে বুধবার মধ্যরাতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ফাহিম আহম্মেদ ফয়েজ (৩১) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে আসামি শনাক্ত ও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। অপর আসামির অবস্থান শনাক্ত করা গেছে, তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

তরুণী মামলায় উল্লেখ করেন, এক বছর আগে ফেইসবুকে নাহিদ পাটোয়ারি (৩২) নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে তাদের মধ্যে কথা হতো। গত ২৭ আগস্ট নাহিদ মোবাইল ফোনে কল করে চাকরি দেওয়ার কথা জানিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে ডাকে। রাজধানীর শ্যামলীর নির্ধারিত ঠিকানায় গেলে অপর আসামি ফাহিম আহম্মেদ ফয়েজ তাকে

 

 

চাকরিবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে পানীয় জাতীয় কিছু খাইয়ে দিলে তিনি শারীরিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। পরে ফয়েজ ও নাহিদ তাকে ধর্ষণ করে।

গতকাল শ্যামলীর ৩নং সড়কের ওই ভবনে গিয়ে জানা যায়, বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ ফয়েজকে আটক করেছে। ভবনের কেয়ারটেকার বাবু জানান, ৫ম তলার কক্ষটি পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ভাড়া নিয়েছিল ফয়েজ। তারা বাসার পাশাপাশি সেখানে অফিসও করেছিল। ওই অফিস থেকে হেপাটাইটিস বি টিকা বিক্রি ও বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করত বলে জানান বাবু।

শেরেবাংলা নগর থানার এসআই তৌহিদ বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেটা যাচাই-বাছাই চলছে।’ শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুনশী বলেন, মামলার পর অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে ফয়েজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাহিদ নামে আরেক আসামি পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফয়েজকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি আরও জানান, ওই তরুণীকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। এ কর্মকর্তা বলেন, হেলথ ভিশন নামে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ডাকার কথা বলা হচ্ছে সেটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।