সোনারগাঁয়ে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন তার মা। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরের বারদী সংবাদদাতা, পটুয়াখালী ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ : জেলার সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের আলগীরচর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিন বছরের শিশুটির মা ঋণের কিস্তি দিতে অন্য একটি বাড়িতে যান। শিশুটি তার সাথীদের নিয়ে উঠানে খেলা করছিল। ওই সময় পাশের বাড়ির পাঁচ সন্তানের জনক ইদ্রিস আলী (৪৫) শিশুটিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটির মা সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে সন্তানকে আঙিনায় না পেয়ে ডাকতে থাকেন। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে ইদ্রিস আলীর ঘর থেকে বের হয়ে মাকে বিষয়টি বলে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে পালিয়ে যায় ইদ্রিস। এরপর শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গতকাল সোনারগাঁ থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আলমগীর হোসেন জানান, শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। ধর্ষণচেষ্টাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পটুয়াখালী : জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার নজিবপুর গ্রামে গত বুধবার গভীর রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের রাকিবুল (২০) ও অন্য দুজনের নাম উল্লেখ করে মহিপুর থানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি মামলা করেন। পুলিশ ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গতকাল সকালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কমরপুর গ্রামের রাকিবুল ওই ছাত্রীর দাদির মোবাইলে কল দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলত। এরই মধ্যে ছাত্রী ও রাকিবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বুধবার গভীর রাতে ছাত্রীকে ফোন করে ঘর থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে যায় রাকিবুল। পরে তাকে নজিবপুর গ্রামের বালুর মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করে। মামলার অপর দুই আসামি বাবু (২২) ও ওবায়দুল (২৪) ধর্ষণে সহযোগিতা করে।

ধর্ষণের পর ছাত্রীকে ওই রাতে বাড়িতে নিয়ে রাখে ওবায়দুল। পরে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রীকে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটো বাইকে তুলে দেয় সে। ওই সময় ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না বলার হুমকি দেয় ওবায়দুল। মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, গতকাল সন্ধ্যায় মহিপুর থানার নিজামপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অন্য দুই আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

সিরাজগঞ্জ : জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের কুঠির সাতবাড়িয়া গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গতকাল সকালে আবদুল মজিদ (৫০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীটির মায়ের মৃত্যু হয় গত ২৩ আগস্ট। গত ২৫ আগস্ট সে কুঠির সাতবাড়িয়া গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এদিন বিকেলে কিশোরীটি ওই বাড়ির বাইরে বের হলে পাশের বাড়ির আবদুল মজিদ তাকে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মজিদ পালিয়ে যায়। পরে কিশোরীর মামা বাদী হয়ে গতকাল সকালে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা করেন। এর কিছুক্ষণ পর থানার এসআই গোলাম মোস্তফা আবদুল মজিদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান।