টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা যুবক নুর মোহাম্মদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) নিয়ে তোলপাড় চলছে। গতকাল রবিবার নিহতের পর তার স্মার্টকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডের বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা হলে মেলে সত্যতা। কক্সবাজারে বসবাস করলেও নুর মোহাম্মদ কৌশলে চট্টগ্রাম জেলার ভোটার হন। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহামুদ আলী জানান, ১৯৯১ সালে মিয়ানমার থেকে আসা নূর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জাদিমুরা এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এর পর থেকে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ তৈরি করে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করেন। ডাকাতির জন্য দুই বছর জেলও খেটেছেন। এরপর ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন। তার মালিকানায় বাংলাদেশে চারটি বাড়ি রয়েছে। তার একাধিক স্ত্রী আছে।
বিষয়টি যাচাই করতে কক্সবাজার নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে স্মার্টকার্ডটির সত্যতা পাওয়া যায়। কার্ডের নম্বরের সূত্র ধরে ওয়েবসাইটে যাচাই করা হলে বেরিয়ে আসে সব তথ্য। সেখানে দেখা যায়, নূর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঠিকানায় বাংলাদেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করেছেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নুর আলম। পিতা কালা মিয়া এবং মাতার নাম সরু বেগম। জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৫ নভেম্বর। এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। ফরম নম্বর: ৪০৩৬৫৬০৫; শিক্ষাগত যোগ্যতা: দ্বিতীয় শ্রেণি; ভোটার সিরিয়াল নম্বর-২১৮৯; ভোটার এলাকা (এরিয়া কোড) : বার্মা কলোনি (১৭২২)। স্থায়ী ঠিকানা-পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা বলেন, ‘অনেক রোহিঙ্গা নানাভাবে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে। কিন্তু কক্সবাজার নির্বাচন অফিস ভোটার হতে অনেক বেশি তথ্য যাচাই-বাছাই করে, তাই এখানে সুবিধা করতে পারে না রোহিঙ্গারা। তাই চট্টগ্রামে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে তারা ভোটার হয়েছে।’
রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি নজরে থাকার কথা স্বীকার করেন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ভোটার হতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চেষ্টা করছে। এনআইডি হয়েছে এ রকম কিছু রোহিঙ্গাকে তালিকাভুক্ত করে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। নুর মোহাম্মদ সেই তালিকায় থাকতে পারে। কিন্তু এনআইডিটা ভুয়াও হতে পারে। সেটিও তদন্তের বিষয়।’