প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঢাকা চট্টগ্রামে বিএনপির সংঘর্ষ

দলের প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাকে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুসি ও লাথি মারতে থাকে। এতে তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক এ জি এম শামসুল ইসলাম। গতকাল রবিবার শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আসার আগেই এ ঘটনা ঘটে। এদিকে চট্টগ্রামে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তারা কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে আঞ্জুর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার সমর্থকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের ধারণা গত ১৯ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সভাপতি ওসমান গণি শাহজাহানকে শোকজ করায় তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমান, উত্তর বিএনপির নেতা শামীম পারভেজসহ শাহজাহানের সমর্থকরা এ হামলা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আহসানউদ্দিন হাসান, দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক কমিটি গঠনে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। টাকার বিনিময়ে কমিটি দিয়েছেন। গত ১৯ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সভাপতিকে শোকজ করেছেন। দারুস সালাম থানা বিএনপির সভাপতি হাজি আবদুর রহমানকে বহিষ্কার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একাধিক নেতা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর উত্তর বিএনপিতে সমস্যা চলছে। এর সূত্রপাত হয় গত বছর। গত বছর ৩ জুন একযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটের ২৫টি থানা ও ৫৮টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান। তখন এসব কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ এনে মহানগর উত্তরের ৬৬ জন নেতার মধ্যে ৩৪ নেতা অবস্থান নেন ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে। ঘোষিত কমিটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিত আকারে তারা লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছয় দফা বৈঠক ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সবকিছু অবহিত করেন তারা। তবে দলের হাইকমান্ড এ সমস্যার সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্রোহী নেতারা পৃথক ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

ঢাকা মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল মহানগরকে দুই ভাগ করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৭০ সদস্যের এবং এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসানউল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা উত্তরের ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব। এর মধ্যে মামলা জটিলতার কারণে কমিটি হওয়ার আগে থেকেই এম এ কাইয়ুম মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, গতকাল নগরীর নুর আহমদ সড়কে বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনে চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তারা কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সভা চলাকালে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে নগর যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় সেখানে কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর বিএনপির এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহানগর যুবদলের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। রবিবারের মারামারির ঘটনা এর বহির্প্রকাশ। নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির অনুসারী ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল হকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে যুবদলের র‌্যালি ও আলোচনা সভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিকেলে মহানগর বিএনপির আলোচনা সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অংশ নেওয়া যুবদল কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকলে শামসুল হকের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে শুনেছি।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য শামসুল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্লোগান দেওয়া নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন তিনি।