নানা কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন বিএনপির

আগামীতে আন্দোলন আরও বেগবান হবে : ফখরুল

দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, গণমাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার করাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার ঢাকাসহ সারা দেশে ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। তাই নির্বাসিত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছেন তারা। এজন্য আগামী দিনে আন্দোলন জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেন। সকাল সোয়া ১০টায় বিএনপি মহাসচিব দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত  কামনা করে মোনাজাত করেন। এর আগে সকালে নয়াপল্টনে ও গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেলে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা করে দলটি। আজ সোমবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি বের করবে তারা।

জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর মির্জা ফখরুল উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএনপি প্রতিষ্ঠার কারণ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির জন্ম একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বিএনপির জন্মের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, দেশের গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের জনগণের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয় আজকে দীর্ঘ ৪০ বছর পর আমরা গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলেছি। যে দল গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল সে দল আজকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস এবং ভিন্নমত যারা প্রকাশ করছেন তাদের নিশ্চিহ্ন করার হীন চক্রান্ত শুরু করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চক্রান্তের ফলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ কারাগারে। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘকাল গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। সেই নেত্রীকে অন্যায়ভাবে সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস কারাগারে আটক রেখে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। আজকে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল দলমতকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে। দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতারা সেই শপথ নিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আমরা সম্পূর্ণ একটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে রাজনীতি করছি। আজকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সারা দেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি। এতে প্রমাণ হয়, এই সরকার গণতন্ত্রের ন্যূনতম যে স্পেস সে স্পেস দিতে চায় না। কারণ তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্র থাকলে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি অবিলম্বে দেশনেত্রীর মুক্তি চায়। গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য একটা নির্বাচন চায়, যে নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। এই দুই দাবি আদায়ে বিএনপি আন্দোলন করছে এবং আগামী দিনে এ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মো. শাহজাহান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, মীর মো. নাসির উদ্দিন, জয়নুল আবদিন ফারুক, মশিউর রহমান, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানো দরকার : বিকেলে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিএনপি নাকি রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাধা দিচ্ছে। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান অতি অল্প সময়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও অতি অল্প সময়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়েছিলেন। অথচ এই সরকার দুইবার চেষ্টা করেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকার এখানেও ব্যর্থ হয়েছে।