মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করেই একটি চক্র গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে বাহিনীটি বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীর পরিচয়ে ফোনে ভয় দেখিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। এদের মূল আস্তানা মাদারীপুরের রাজৈর এলাকায়। র্যাবের গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, শনিবার থেকে গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত র্যাব-৪ মাদারীপুরের রাজৈর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাদারীপুরের মো. মিন্টু খান (৩৫), রাকিব খান ওরফে টিটুল (৩৪), জামাল শেখ (৪৩), রবিউল ইসলাম (৩৪), সোহেল হাওলাদার (২৬), শামিম খান (১৯), পটুয়াখালীর বিল্লাল খান (৩৫), সিরাজগঞ্জের আব্দুল মোমিন (২৮) ও কিশোরগঞ্জের রাব্বি হোসেন।
র্যাব বলছে, রাজৈর থানার লুন্দী, কৃষ্ণপুর, ইছুবপুরসহ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোকজনের প্রধান পেশাই হচ্ছে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি। এভাবে অর্জিত অর্থে তারা বেশ সচ্ছল। প্রতারণা ও চাঁদাবাজির টাকায় তারা মাইক্রোবাস, লেগুনাসহ বিভিন্ন গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছে। চক্রের কিছু সদস্য বিদেশে গিয়েও একইভাবে চাঁদাবাজি করছে।
র্যাব আরও জানায়, এই চাঁদাবাজ চক্র নিজস্ব লোকের মাধ্যমে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডায়েরি থেকেও কর্মকর্তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে। অপর ঠিকানা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যক্তির বাসার এলাকায় গিয়ে তার সামাজিক অবস্থান, সন্তান ও স্ত্রীর তথ্য, চাকরির যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। আর্থিক সংগতি জেনে তারা চাঁদার হার নির্ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি বা সর্বহারা নেতা পরিচয়ে ফোনে ভয়ভীতি দেখান। সন্তানদের অপহরণ কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেন। গ্রুপের আরেকটি অংশ বিকাশ বা কৌশলে নগদে টাকা গ্রহণ করে। এই চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখানো ছাড়াও বিকাশের নামে প্রতারণা, বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নামে লটারি জেতা বা জিনের বাদশা পরিচয়েও প্রতারণা করেন।