চলতি বছর ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের প্রস্তুতি রেখেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামই তাদের প্রার্থী থাকবেন। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের পরিবর্তে ভাবা হচ্ছে শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বা ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীকে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওই নেতারা বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের
বর্তমান মেয়র ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব আতিকুল ইসলামকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায়ও তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিশেষ ওই বিবেচনাটি হলোÑ খুব কম সময়ের জন্য তিনি মেয়র হয়েছেন। তাই কর্মদক্ষতা প্রমাণে তাকে আরও সময় দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাছাড়া ঢাকা উত্তরে বসবাস করা বেশিরভাগ মানুষ ‘উচ্চবিত্ত’ হওয়ায় আতিকুলই সেখানে ভালো করতে পারবেন বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।
দলটির সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ফজলে নূর তাপস ও সাবের হোসেন চৌধুরীÑ এ দুজনকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে। এ দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে, সুশীল ভাবও আছে। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে দল তাদেরই উপযুক্ত মনে করছে। সম্পাদকম-লীর ওই সদস্য আরও বলেন, শেখ ফজলে নূর তাপস নিজেও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে মেয়র নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন দায়িত্বপালন করতে গিয়ে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় তার ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ মনে করে, দক্ষিণে প্রার্থী পরিবর্তন করতেই হবে। তাছাড়া বিজয় ছিনিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ে অনেকেই মেয়রের ব্যর্থতার কথা বলছেন। তাই ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে হলে সাবের বা তাপসের মতো পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এ দুজনের রাজনীতির বাইরেও দুটি পরিচয় আছে। সাবেরের ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। আর তাপস বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও ১৫ আগস্ট বাবা-মা হারিয়ে এতিম হয়ে বড় হয়েছেন। এর ফলে তাপস পাবলিক ‘সিমপ্যাথি’ পাবে বলে মনে করা হয়।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিকল্পনায় থাকলেও এবার একই দিনে ভোট হচ্ছে না ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তাও দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি বছরেই হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচন। এ ক্ষেত্রে ডিসেম্বরের শেষদিকে নির্বাচন হবে। ৩০ ডিসেম্বরের সম্ভাবনাই বেশি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন, আগামী বছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের সুবিধার্থে আগেভাগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান জরুরি। জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপিত হবে। যার ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরই উত্তম সময় সিটি নির্বাচনের। তারা বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এই মাসে আওয়ামী লীগের পক্ষে জোয়ার বয় সবসময়। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনও ডিসেম্বর টার্গেট করে করা হয়েছে। এসব কারণে ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচন উপযোগী হলেও মেয়াদ শেষ না হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন একই সময়ে না হওয়ার সম্ভাবনা কম। কেন্দ্রীয় ওই নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন হতে পারে আগামী বছর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বছরের মধ্যে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আলোচনা দল ও সরকারের মধ্যে আছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন উপযোগী না হলে ঢাকার দুটি হয়তো হবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। একই কথা বলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানও।