রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ‘সিআইসি’ প্রত্যাহার

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) দায়িত্বে নিয়োজিত শামীমুল হক পাভেলকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার সকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ৩ ও ৪ নম্বর ক্যাম্পে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন

বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়ের একটি আদেশে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ৩ ও ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ শামীমুল হক পাভেলকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। সেখানে বিমানবন্দর এক্সটেনশনের উপপ্রকল্প পরিচালক পদে তাকে বদলি করার কথা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু জানি না।’

প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুনেছি ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ কিছু কারণ রয়েছে, বিশেষ করে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মহাসমাবেশ করার অনুমতির একটি আবেদনের বিষয়ে তিনি কাউকে কিছুই জানাননি। তবে তার বদলির আদেশে এ রকম কিছু লেখা নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছেন, শামীমুল হক পাভেল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্যাম্পে নানা অনিয়ম ও বাণিজ্যিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুরছড়ায় রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেন তিনি। এ জন্য তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘সিআইসি’ শামীমুল হক পাভেল। তিনি বলেছেন, ‘অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে এসেছি। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন আমার কাছে নিয়ে আসেন। স্বাভাবিকভাবে কেউ আবেদন নিয়ে এলে সেটি রিসিভ করা আমার দায়িত্ব। তাই আমি আবেদনটি রিসিভ করেই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা আমাকে কিছুই বলেননি। তাই আমিও রোহিঙ্গাদের অনুমতির ব্যাপারে কিছু বলিনি। এরই মাঝে রোহিঙ্গারা সমাবেশ করে।’

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘শুধু শামীমুল হক পাভেল নন। একসঙ্গে সাতজন সিআইসিকে বদলি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের বদলির আদেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়। রোহিঙ্গাদের সমাবেশের কারণে তাকে বদলি করার বিষয়টি সত্য নয়।