ভাড়ায় তোলা যাত্রীকে মোটরসাইকেল চালাতে না দেওয়া ও সেটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পাঠাও চালক মো. মিলনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে নূর উদ্দিন ওরফে সুমন (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিবি রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে মিলনের ব্যবহৃত একটি স্যামসাং জে-৫ মোবাইল ফোনসেট, দুটি হেলমেট ও ডায়াং ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সুমন নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জনাববন্দি দিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আবদুল বাতেন আরও বলেন, গত ২৬ আগস্ট রাত ৩টার দিকে পাঠাও চালক মিলন যাত্রীবেশি সুমনকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে থেকে ৫০ টাকা ভাড়ায় গুলিস্তান নিয়ে যাচ্ছিল। ফ্লাইওভারের সবচেয়ে ওপরের অংশে পৌঁছালে মিলনকে মোটরসাইকেল থামাতে বলে সুমন। থামানোর পর নিজেই সেটি চালানোর কথা বলে। এতে মিলন রাজি না হলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন অ্যান্টিকাটার দিয়ে মিলনের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে ফ্লাইওভারে ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেল ও ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যার পরপরই থানা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তেনামে ডিবি। ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা বা কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। এমন ঘটনায় অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা ছিল কষ্টসাধ্য। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার ভোররাতে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চুক্তিতে না নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন নিরাপদ। সেজন্য চালক ও নগরবাসীকে সচেতন হওয়া জরুরি। ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমান, ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান ও ইলিয়াস শরীফসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।