ফরিদপুরে বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব

ফরিদপুরে জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

লন্ডনে অবস্থানকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে যোগাযোগ মাধ্যমে সংলাপ বিনিময়কালে এ প্রস্তাব দেন নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার পুরোনো পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ সংলাপ হয় লন্ডনে অবস্থানকারী তারেকের।

ওই সংলাপে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক ওরফে শাহজাদা মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শহীদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ওরফে ইছা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেন ওরফে জুয়েল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম ওরফে লিটন।

দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংলাপে অংশ গ্রহণকারীদের সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির নেতারা বিগত সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে নিজ নিজ ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাদের বক্তব্যের সমর্থনে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি ও সংবাদ কাটিং প্রদর্শন করেন। দীর্ঘ সময়ব্যাপী এ সংলাপ চলাকালে জেলা নেতৃবৃন্দ মাঝে মধ্যেই একে অপরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, সংলাপের একপর্যায়ে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শহীদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক মোদাররেছ আলী ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেন জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কার্যকর কমিটি করে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতিকে। উপস্থিত আরও দুই নেতাও পরোক্ষ ও মৌন সমর্থন জানান এ প্রস্তাবে।

তারেক রহমান নেতৃবৃন্দকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, তিনি দ্রুত বিএনপির সাংগঠনিক কমিটিতে ফরিদপুর জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলাপ করবেন এবং দ্রুতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ওই সংলাপে অংশ নেওয়া জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বলেন, জেলা বিএনপির কমিটি এখন আর বর্তমান নেই। আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই কেন্দ্র থেকে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে।

তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী বলেন, কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়নি। তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সংলাপের সময় উপস্থিত আমরা পাঁচ নেতাই কমিটি ভাঙার পক্ষে কথা বলেছি। কেউ কেউ জোরে সারে বলেছি, কেউ কেউ মৃত স্বরে বলেছি, এই যা পার্থক্য।

ওই সংলাপে বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং দুই সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও সেলিমুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সংলাপে দলের কর্মকাণ্ডকে কীভাবে বেগবান করা যায় সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। সকল বিভেদ ভুলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলন করার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেছেন।

প্রসঙ্গত জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর। এর পর দশ বছর চলে গেলেও জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়নি। বিগত সময়কালে ১৫২ সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিএনপির কমিটির অন্তত ২৫জন নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।