মূল্যস্ফীতির চাপ কমেছে। ঈদের পর টাকার সংকট থাকায় মানুষ খরচ কমিয়ে দিয়েছে। এজন্য গত মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা জুলাইতে ছিল ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শহরের চেয়ে গ্রাম অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ কম ছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ঈদের পর মানুষের পকেটে খরচ করার মতো টাকা নেই। সংকট থাকায় অনেকে ঋণ করে চলছেন। তাহলে তো মূল্যস্ফীতি কমবেই। এছাড়া এখন বৃষ্টি কম। বন্যার পর পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হয়েছে। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি কমেছে।
বিবিএসের মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন বলেন, বিবিএসে প্রতি মাসের ১৩-১৮ তারিখ মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এজন্য মন্ত্রীর (এম এ মান্নান) কথা ঠিক। কারণ ঈদ ছিল আগস্টের ১২ তারিখে।
বিবিএসের তথ্য অনুসারে, এ সময় খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, আগস্টে তা কমে হয়েছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে আগস্টে কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামে সার্বিকভাবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ।