হাইকোর্টে জামিন পাননি দুদকের বাছির

পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে বাছিরের জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আদালত বাছিরের জামিন কিংবা জামিন প্রশ্নে রুল দিতে না চাইলে আবেদনটি ফিরিয়ে নেন তার আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার এনামুল বাছিরের জামিন কিংবা জামিন প্রশ্নে রুল চেয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট তাদের আবেদনে সাড়া দেননি। এ জন্য তার আইনজীবী আবেদনটি ফিরিয়ে নেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে শুনানিতে বলেছি, এনামুল বাছির দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানও পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। এ যুক্তিতে তার জামিনের বিরোধিতা করেছি।’

গত ২২ জুলাই রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত টিম। পরদিন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এক আদেশে বাছিরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। সেই থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি। 

পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তা মিজানের অবৈধ সম্পদের খোঁজসংক্রান্ত অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছির। অনুসন্ধান চলার সময়ের মধ্যেই পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গত ৮ জুন দাবি করেন, বাছির তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। 

দুই সংস্থার এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকেই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৬ জুলাই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আর মিজানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় মিজানুর রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।