মহাসড়ক টেকসই করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২১টি সড়কে স্থাপন করা হচ্ছে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ মেশিন। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে ৬ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম ও ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীস।
সভায় ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ নামের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এগুলো স্থাপন করা হলে অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত পরিবহন রোধ করে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকানো যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে সড়কে লোড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরামর্শকের পকেটেই যাবে ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণে যাবে প্রায় ৩ কোটি টাকা।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সড়কের যান চলাচল নিরাপদ এবং সড়কগুলো মজবুত ও টেকসই রাখার উদ্দেশ্যে ওয়েবনির্ভর মনিটরিং সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়কের ২১টি স্থানে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে।
সভায় অনুমোদিত ১০ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৩২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৩২৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৯৯৯ কোটি টাকা খরচ করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম (দাসেরহাট)-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্যবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। ভূঞাপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩০৭ কোটি টাকা। চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার বছরের জন্য পারফরম্যান্স বেইজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি টাকা।
পানির গুণগতমান পরীক্ষার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা। নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩২৬ কোটি টাকা। মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষকপর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৮ কোটি টাকা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব-স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫৫ কোটি টাকা। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৫১ কোটি টাকা। কনভারশন অব ১৫০ মেগাওয়াট সিলেট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট টু ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯১০ কোটি টাকা।