ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে চতুর্মুখী চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে মিয়ানমার তার দেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করে। এতে রোহিঙ্গারা আশ্বস্ত হবে, তারা নিজ দেশে ফিরে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের সুরমা নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে আছে এবং থাকবে।
রাষ্ট্রদূত কিন ব্রিজের সৌন্দর্য দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। ৮৬ বছরের পুরনো এই ব্রিজটি পর্যটকদের মন জুড়াবে। সিলেট সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ব্রিজটির সৌন্দর্য বর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রশংসা করে বলেন, শুনছি এই ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে কেবলমাত্র হাঁটার ব্রিজে রূপান্তর করা হবে। আর সেটা হলে এটি হবে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ পদচারী সেতু। তিনি বলেন, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আমন্ত্রণ পেয়ে ব্রিজটি দেখতে এসেছি। এখানে এসে আলী আমজাদের ঘড়িও দেখলাম। এটিও একটি চমৎকার স্থাপনা।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর ওপর ১৯৩৩ সালে তৎকালীন আসাম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কিনের নামে নির্মিত হয় কিন ব্রিজ। সম্পূর্ণ লোহার কাঠামোয় নির্মিত এই ব্রিজটির সৌন্দর্য যে কারও নজর কাড়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদাররা ডিনামাইট দিয়ে ব্রিজের একাংশ উড়িয়ে দিয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পর মেরামত করে ব্রিজটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর কয়েক দফা হয়েছে এই ব্রিজের সংস্কারকাজ। গত প্রায় দেড় দশক ধরে এই ব্রিজ দিয়ে কেবলমাত্র রিকশা, অটোরিকশাসহ হালকা যানবাহন ও পথচারীরা চলাফেরা করছে। এখন এই ব্রিজ দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। ব্রিজটি মেরামত করার জন্য গত ৩১ আগস্ট থেকে আপাতত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মেরামত কাজ শেষে ‘এই ব্রিজ দিয়ে আর যানবাহন চলবে, নাকি এটি কেবলই পায়ে হাঁটার সেতু হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে’ এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।