রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইসরা তাসকিন অস্মিতা (১৩) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল বুধবার সকালে মারা গেছে। অস্মিতা আজিমপুর শাখার অষ্টম শ্রেণির সি শাখার ছাত্রী ছিল। সে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আমানত মাওলার মেয়ে। অস্মিতার বাবা জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গুতে
আক্রান্ত হন। সবাইকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অস্মিতার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে মিলেনিয়াম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ছয় দিন তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর মৃত্যু হয়।
মা হেনা নুরজাহান বলেন, ‘অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও মেধাবী মেয়ে ছিল আমার। ও অসাধারণ ছাড়া লিখত, গান গাইত, ছবি আঁকত। আমাদের ইচ্ছা ছিল মেয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে। ওর ইচ্ছা ছিল ফ্যাশন ডিজাইনার হবে। আমার মেয়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। অথচ অকালে প্রাণ গেল আমার মেয়ের।’
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জোসনা খাতুন (৫৫) নামে এক ডেঙ্গু রোগী ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। জোসনা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিষাকু-ি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের আসাদুজ্জামান মঙ্গল ম-লের স্ত্রী। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ডেঙ্গু সন্দেহে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চলতি বছর ডেঙ্গু সন্দেহে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯২ জনে পৌঁছাল। এদের মধ্যে ৯৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৫৭ জনের ডেঙ্গুর কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। আর এই সময় সারা দেশে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২০ জন, যা আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ৩৭ জন বেশি, ওইদিন মোট আক্রান্ত হয়েছিল ৭৮৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪৫ জন আর ঢাকা শহরের বাইরে অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৫ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৩ হাজার ৫৬৫ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৭৮৫ জন আর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৮ জন। এদের মধ্যে ঢাকা শহরের হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৮৯ জন। আর ঢাকা শহরের বাইরে সব বিভাগে ১ হাজার ৫৯৯ জন। মোট ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই বাড়ি ফিরেছেন।
ঢাকায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৪৭ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪৯ জন, শিশু হাসপাতালে ১৫ জন, বিএসএমএমইউতে ২২ জন, পুলিশ হাসপাতালে ৮ জন, মুগদা মেডিকেলে ৫৬ জন, সিএমএইচে ১৪ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগে ১১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৮ জন, সিলেট বিভাগে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন নতুন রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন।