সরকারি সংস্থাগুলো গঠন থেকে শুরু করে লোকসানে থাকাকালে সরকারের টাকায় চললেও আয় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা যখন আয় করা শুরু করে, তখন নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ খরচ করে। এমনকি নিজেদের বেতন-ভাতাও নিজেদের পছন্দমতো ঠিক করে নেয়। সরকার, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা কোনো কমিটিরও কোনো অনুমোদন নেয় না। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সুষ্ঠু রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থানার স্বার্থেই তাদের কাছে থাকা অলস অর্থ কোষাগারে নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কোষাগারের মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রের সব জমা-খরচ করতে হবে। এটা আমাদের সাংবিধানিক চাহিদা। লক্ষ করেছি, সরকার নিজের টাকা দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। প্রতিষ্ঠান বড় হয়ে যখন আয় করতে শুরু করে, তখন তারা মনে করে যে তারা যে টাকা আয় করছেÑ সেটি তাদের টাকা। সেই টাকা তারা কীভাবে খরচ করে, তার কোনো ঠিক থাকে না। বেতনও নিজেরা ঠিক করে নেয়। বোনাস কয়টা নেবে, সেটাও তারাই ঠিক করে। আমাদের জানায়ই না। মিটিংয়ের নাম করে বা অন্যভাবে নানা ভাতা নেয়, যার কোনো ঠিক থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয় না, আমাদের অনুমোদন নেয় না। কিছু অনিয়মও থাকে। সমন্বিতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করলে অনেক সহায়তা পাওয়া যায়। তাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়ে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি এনবিআরও (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) মনে করে, তারা যেহেতু রাজস্ব আদায় করে, তারা কিছু সুবিধা ভোগ করবে। এটা তাদের হক। তারা সেই টাকা খরচ করবে। কোনো কমিটির অনুমোদন নেয় না, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয় না। খরচ করা আরম্ভ করে দেয়। সে জন্য নতুন আইন করেছি। এতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পর্যাপ্ত টাকা রাখা হবে। তাদের পরিচালন ব্যয় ছাড়াও অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ অর্থ রাখা হবে। প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকল্প থাকলে সেই প্রকল্পের টাকা আলাদা করে রাখতে পারবে। তবে যাদের কাছে অলস টাকা আছে, সেগুলো সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে।’
এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়বে কি না, এমন প্রশ্নে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় তো ব্যাংক না। টাকা এনে কই রাখব, ব্যাংকেই তো থাকবে। কারও কোনো কিছুই হবে না। হিসাবের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসবে। কোনো ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়া হবে না। কোনো ব্যাংকের তারল্যও কমবে না। যেগুলো আমানত আছে, সেগুলো ভাঙানো হবে না। আমাদের শুধু জানাতে হবে যে কোথায় কোথায় আমানত আছে। মেয়াদ শেষ হলে উন্নয়নকাজে দরকার হলে সেগুলো ব্যবহার করব। সরকার ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেখানে নিজেদের টাকা ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ আইনের বিষয়ে কোনো সমালোচনা আছে কি না, এ প্রশ্নের ‘না-সূচক’ জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকল্প বা কোম্পানি হওয়ার সময় টাকা সরকার দেয়। তাই তার মালিকও সরকার। সরকার মালিক হলে দাবি তো করতেই পারে যে কোথায় কী করছ, আমাদের জানাও। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, পাটকল করপোরেশনসহ অন্যরা যখন লোকসানে থাকে, সেগুলো পরিচালনার জন্য সরকারকে টাকা দিতে হয়। তাহলে মুনাফায় থাকলে সরকার কেন টাকা নিতে পারবে না?’
প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের মেয়াদ পূর্তির পর সরকার সেগুলো নিয়ে নেবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্তে যাইনি। কারণ তাদের বিভিন্ন রকম বিনিয়োগ আছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখনকার মতো চললে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যাবে।’