দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখবে অস্ট্রেলিয়া

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও দোসরদের নির্যাতনে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়া ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিস পেইন। গতকাল বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে গত মঙ্গলবার রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কক্সবাজার যান পেইন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন

রাজ্যে কথিত বিদ্রোহীদের হামলার অভিযোগ করে সেনা অভিযান শুরু হলে বাংলাদেশে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তারা আশ্রয় নেয় সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার ও বান্দরবানের ক্যাম্পগুলোতে, যেগুলোতে আগে থেকে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছিল। নির্যাতনের মুখে ভিটেছাড়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ দুবার উদ্যোগ নিলেও মিয়ানমারে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করে যেতে চায়নি তারা।

এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়া সরকার ভূমিকা রাখবে। ইতিপূর্বে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমি মিয়ানমার সফর করেছি এবং মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আর এখন বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করলাম। দীর্ঘদিন পর হলেও অস্ট্রেলিয়ার একজন মন্ত্রী হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলাম। ক্যাম্পে এসেই রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বললাম এবং তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানসহ নানা বিষয়ে জেনেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে গিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা যায়, সে বিষয়ে আমার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

গতকাল মন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া সরকারের অনুদানে পরিচালিত বেশ কিছু শিশুশিক্ষা কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সমুদ্র অর্থনীতিবিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।