দিনের প্রথম ২৫ ওভারের ১৩ ওভার করলেন। এর মধ্যে দুটি উইকেট। স্পেলটা ছিল এমনÑ ১৩-২-২১-২। আর দিনের শেষে তাইজুল ইসলামের বোলিং ফিগার ৩১-৪-৭৩-২। দিনের ৯৬ ওভারের মধ্যে সবচে বেশি বোলিং তার। টেস্টে দেশের পক্ষে দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটাও হলো। আছে মোহাম্মদ রফিককে (ঠিক ১০০ শিকার) ছাড়িয়ে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়ে যাওয়া। কিন্তু টেস্টে নবীন আফগানিস্তান চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে যে ২৭১ রান তুলে ফেলল! তাইজুল বিচলিত নন। যে উইকেটে যা হওয়ার কথা ছিল, তাই তো হয়েছে। হাতের তালুর মতো ‘মুখস্ত’ উইকেটে আফগানদের রান যে ৩০০ হয়নি তাই তো বেশি!
দিনের শেষে তাই এই বোলার সাফ বলছেন, ‘আমরা এখন সঠিক জায়গাতেই আছি। উইকেটের পরিস্থিতি যেমন তাতে খারাপ হয়েছে আমি বলব না। আমার কাছে মনে হয় রানটা কমই হয়েছে। বোলাররা অনেক ভালো বল করেছে।’ বাংলাদেশ ‘অল স্পিন অ্যাটাক’ নিয়ে নেমেছে। চার স্পিনার। শেষ পর্যন্ত হাতে থাকা আরও তিন পার্টটাইম স্পিনারকে বল করিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে আছে প্রথম সেশনে মাহমুদউল্লাহর এক উইকেটের সাফল্য। তারপর উইকেটহীন হতাশার দ্বিতীয় সেশন শেষে এক ওভারে টিনএজার নাঈম হাসানের এক ওভারে দুই উইকেট।
এটা পরিষ্কার, টস বড় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। সাকিব ওখানে হেরেছেন। ৯৬ ওভার বল করেও আফগানদের অর্ধেক উইকেট অর্জন বাংলাদেশের। এবং সেটিকে বেশ ভালো বলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটের দিকেই চোখ রাখলেন তাইজুল, ‘না, প্রত্যাশার বাইরে যায়নি। উইকেটটা এখন ‘মুখস্ত উইকেট’ হয়ে গেছে। উইকেটে মাঝে মাঝে যদি টার্ন করত বা মাঝে মাঝে যদি সোজা যেত বল, তেমনটা করলে ওরা হয়তো আরও সতর্ক হয়ে খেলতও বা উইকেটের সংখ্যাটা বেশি থাকত। কিন্তু এখন উইকেটের যে অবস্থা তাতে বলটা একই রকম হচ্ছে। তাই ওরা মুখস্তের মতো খেলছে।’
মুখস্ত উইকেট কী? আফগানরাও এই এশিয়ারই। বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও তাদের ব্যাটসম্যানরা তো খুব খারাপ নয়। রহমত শাহ দেশের ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন। আসগার আফগান ৮৮ রানে অপরাজিত। তাহলে কি স্বাগতিকদের চাওয়া আর পাওয়া উইকেটের মধ্যে পার্থক্য থেকে গেছে? ‘আশা যেমনটা করেছিলাম উইকেট দেখে তেমনটাই হয়েছে’ তাইজুল বলছিলেন, ‘এখানে পেস বোলার নিয়ে আসলে লাভ হবে না। পেস বোলারকে হয়তো দুই তিন ওভারও বল করাতে পারবেন না।’ তাহলে বোলারদের ব্যর্থতা? ‘না’ তাইজুলের জবাব, ‘আসলে উইকেট যেমন বোলাররা তেমনই বল করেছে। হয়তো এর থেকে একটু ভালো করতে পারত। মানে ৮টা ৯টা উইকেট ফেলা যেত তা নয়। উইকেটের আচরণ হিসেবে ৫ উইকেট ঠিক আছে। এর চেয়ে তাদের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। তারা আজ ৩০০ পার করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।’
ভাগ্য ভালো তাহলে বাংলাদেশের! কিন্তু ক্রিকেটে তো কত অলৌকিক কাণ্ড ঘটে। ‘ক্রিকেটে মিরাকেল যে নেই তা কিন্তু না। নাঈমের এক ওভারে দুই উইকেটের প্রসঙ্গ টেনে তাইজুল বলছিলেন, ‘আমরা যদি ১০ রানে ৫ উইকেট ফেলে দিতে পারি তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। তাই না?’
আফগানদের এত ভালো ব্যাট করতে দেখে একটু চমকেছেন তাইজুল। মানে বাংলাদেশ দলই চমকেছে। তবে দলগত ব্যাপারের সঙ্গে আসে ব্যক্তি অর্জনের কথা। আর ১০০ উইকেটের গৌরবের প্রসঙ্গে তাইজুলের মুখে হাসি ফোটে, ‘টেস্ট ক্রিকেটকে, আপনারা সবাই জানেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে সবচেয়ে সম্মান দেওয়া হয়। তাই এটা ভালো লাগার বিষয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক খুশি হয়েছি।’
শেষ পর্যন্ত খেলাটা ৫ দিনের। কিন্তু এখানকার উইকেট যত দিন যায় স্পিনারদের বন্ধু হয় তত। আফগানদের আছে দুই লেগ স্পিনার রাশিদ খান ও কাইস আহমেদ, এক চায়নাম্যান জাহির খান ও এক অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী। এদের বোলিং বৈচিত্র্য তুলনায় একটু বেশি। দুজনের অবশ্য অভিষেক এই টেস্টে। কিন্তু এসব নিয়ে দলকে ভাবতে যেন নিষেধ করলেন তাইজুল। তার ধারণা, প্রতিপক্ষ স্পিনাররা তেমন কিছু করতে পারবেন না, ‘আজ উইকেটের যে ব্যবহারটা দেখেছি তাতে ওদের যে স্পিনার আছে তাতে আমার মনে হয় না খুব কঠিন হবে। যদি এটা টি-টোয়েন্টি বা তেমন খেলা হতো তাহলে আমি হয়তো ওদের ভালো অবস্থায় রাখতাম। কিন্তু খেলাটা টেস্ট। ওদের বোলারদের ম্যাচে ধৈর্য কেমন থাকবে এটাও একটা দেখার বিষয়।’ তাইজুল প্রথম দিনের আলোচনার শেষ টানেন এভাবে, ‘ওদের স্পিনাররা আগেও টেস্ট খেলেছে, দুইটা খেলেছে, ইন্ডিয়ার সঙ্গে খেলেছে। কিন্তু যে দুইটা খেলেছে তাতে আমার মনে হয় না আহামরি কিছু করেছে। আমি আমার টিমকে এখনো এগিয়ে রাখব।’