সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার এবং তা কার্যকর হবে ২০২১ সাল থেকে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
সচিব বলেন, ‘সামেটিভ পরীক্ষা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না, কেবল ফরমেটিভ পরীক্ষা থাকবে। অর্থাৎ রাউন্ড দ্য ইয়ার তারা পরীক্ষা দেবে। সারা বছরেই ক্লাসে মূল্যায়ন করা হবে, শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ সবগুলো বিষয় মূল্যায়ন করে গ্রেড দেওয়া হবে। তবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বার্ষিক পরীক্ষা আগের মতোই থাকবে। ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ স্কুলে এ ব্যবস্থা চালু হবে এবং ২০২১ সাল থেকে দেশের সকল স্কুলে কার্যকর হবে।’
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি চলছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সরকারের সময় এ হার ছিল ৫৩ দশমিক ৫ ভাগ। মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার ১৫-৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩৪টি উপজেলায় শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জন নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সাক্ষরতা অর্জনকারী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান; প্রাথমিকভাবে ৫০০টি আইসিটি বেইজড স্থায়ী কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার (সিএলসি) স্থাপন করা হবে এবং ৬৪টি জেলায় ৬৪টি জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’