প্রধানমন্ত্রীকে মরিস পেইন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে জোরালো সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিস পেইন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আশ্বাস দেন।

ঢাকায় শুরু হওয়া তৃতীয় আইওরা সমুদ্র অর্থনীতিবিষয়ক (ব্লু ইকোনমি) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেস সচিব জানান, ‘আমরা চাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক।’

মরিস পেইন প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অস্ট্রেলিয়া মানবিক দিক বিবেচনায় আগামীতে আরও সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুটির সংস্পর্শে থাকতে চাই।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রেস সচিব জানান, শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ করেছি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছি; কিন্তু চুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের অবশ্যই নিজ ভূমে ফিরিয়ে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা। ইতিমধ্যেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ নতুন শিশু জন্মলাভ করেছে।’

শেখ হাসিনা অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে তার সরকার রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য একটি দ্বীপের উন্নয়ন সাধন করেছে। অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ক্রিকেট প্রসঙ্গে কথা হলে মরিস পেইন, যিনি কিনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই এই জনপ্রিয় খেলার একজন ভক্ত বলেন, তারা চান অস্ট্রেলীয় জাতীয় ক্রিকেট দল আগামী বছর বাংলাদেশ সফর করুক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তৃতীয় আইওরা সমুদ্র অর্থনীতিবিষয়ক (ব্লু-ইকোনমি) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা একই হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান বলে প্রেস সচিব উল্লেখ করেন।

কনফারেন্স উপলক্ষে আসা প্রতিনিধিদলের প্রধানরা বাংলাদেশের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, সব অংশগ্রহণকারী দেশই এই সম্মেলনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে।

সম্মেলনের মূল অধিবেশনে একটি প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং বলেন, তারা এই সম্মেলনের ঢাকা ঘোষণাকে সমর্থন করবেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই আইওরা সম্মেলন ফোরামে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। যেখানে সাধারণ মানুষ বৈরী আবহাওয়া তথা সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও নদীর ভাঙনের সঙ্গে বসবাস করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করেছি, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি এবং নদী খনন করেছি, যাতে করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।’ তিনি বলেন, উপকূলে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন সৃজন এবং সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।