নিয়োগ-পদোন্নতি

অভিন্ন নীতিমালা বাতিল চান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা বাতিল চেয়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয়েছে। শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এই নীতিমালা উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের ‘নীলনকশা’ বলে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, সিলেট ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধির খবর :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে গতকাল বৃহস্পতিকার এক মানববন্ধনে নীতিমালাটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম এই কর্মসূচির আয়োজন করে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক মানববন্ধনে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘এর মধ্যে দুরভিসন্ধি ও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে যারা অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনতে চান, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শিথিল নয়, আরও কঠিন করা হোক। শুধু জিপিএ নম্বর দিয়ে যোগ্যতা নির্ধারণ করা যায় না।’

মানববন্ধনে লিখিত বিবৃতি পড়েন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক আলতাফ হোসেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার মান ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত ঠিক করবে, এটাই কাম্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন।

এই নীতিমালার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে গতকাল এই কর্মসূচি পালিত হয়। শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাবেশে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এস এম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্য শিক্ষকরা বক্তব্য দেন। সিকৃবির বঙ্গবন্ধু চত্বরে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা।

এই নীতিমালা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষকরাও। একাডেমিক ভবনের সামনে কর্মসূচিতে প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘ইউজিসির নীতিমালা শিক্ষকদের মনে দ্বিধার সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান নষ্ট হবে। এটি প্রত্যাহার করে শিক্ষকবান্ধব নীতিমালা করতে হবে।’ গত ২৫ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করার কথা। ২০১৭ সালে নীতিমালার খসড়া তৈরি করে ইউজিসি।