যশোরে ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের এক কিশোরী সন্তান প্রসব করেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
শনিবার দুপুরের দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানটিকে ভূমিষ্ঠ করা হয়। সন্তান সুস্থ থাকলেও শিশুর মায়ের অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
কিশোরীর রিকশাচালক পিতা জানান, মনিরামপুরে উপজেলা পল্লি দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার ‘ধর্ষণের শিকার’ হয়ে কিশোরীটি ৮ মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। মেয়েটির সন্তান প্রসবের সম্ভাব্যদিন ছিল আগামী ১৭ অক্টোবর। মেয়েটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে তার প্রসববেদনা উঠলে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মেয়েটি একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, অপারেশনের পর বাচ্চাটি সুস্থ থাকলেও মায়ের অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’। বাচ্চাটির ওজন হয়েছে আড়াই কেজি। তবে মা ও ছেলে হাসপাতালের চিকিৎসক টিমের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছে। তাদের সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিশোরীর পিতা রিকশা চালক জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ধর্ষক গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশ আটক করে। তার ছেলে ফোনে ৫ লাখ টাকা দিয়ে মীমাংসা করে নিতে বলেছিল। মীমাংসা না করলে টাকা দিয়ে ডিএনএ রিপোর্ট পরিবর্তন করার হুমকিও দেয় সে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরামপুর থানার উপপরিদর্শক সমেন কুমার বিশ্বাস জানান, ধর্ষণের ঘটনার কারণে মা ও বাচ্চাটির নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং বাচ্চা সুস্থ হলেই আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে যশোরের জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু মা ও ছেলের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। চিকিৎসার যাবতীয় খরচ তারা বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন।